উত্তরপ্রদেশের হাপুরে পথ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক মুসলিম ট্রাক চালককে মারধরের অভিযোগ উঠল কানওয়ারিয়াদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু হয়েছে ২৭ বছরের আজিম আলির। গত ৪ অগস্ট দিল্লির লোকনায়ক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ঘটনায় ইতিমধ্যেই কয়েক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মোরাদাবাদের বাসিন্দা আজিম পেশায় ট্রাক চালক ছিলেন। গত ৩১ জুলাই তিনি দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। হাপুরের গড়মুক্তেশ্বর থানার এলাকার শিবা ধাবার কাছে তাঁর গাড়ির সঙ্গে একটি অটো রিকশার সংঘর্ষ হয়। ওই অটোতে কয়েক জন কানওয়ারিয়া ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি অটোতে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনায় অটোর চালক আহত হন। অভিযোগ, এরপর কয়েক জন কানওয়ারিয়া আজিমকে তাঁর গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে মারধর শুরু করেন। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর জখম হন। পুলিশ তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় মেরঠে স্থানান্তর করা হয়।
আজিমের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ২ অগস্ট তাঁরা পুলিশের কাছ থেকে ঘটনার খবর পান। তখনই জানতে পারেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরে তাঁকে দিল্লির লোকনায়ক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েক দিন কোমায় ছিলেন আজিম। শেষ পর্যন্ত দুর্ঘটনার ছয় দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়।
আজিমের দাদা মকবুল আলির অভিযোগ, মেরঠের হাসপাতালে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন যে দুর্ঘটনার পর কানওয়ারিয়ারা আজিমকে গাড়ি থেকে বের করে মারধর করেছিলেন। আজিমের বাবা ইনতেজার হুসেন শয্যাশায়ী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন আজিম। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী এবং মাত্র পাঁচ মাসের সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে।
আজিমের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গড়মুক্তেশ্বর থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। পুলিশ পাঁচ জন কানওয়ারিয়া—মনিশ, অঙ্কিত, লোকেশ, শিবম এবং অটোচালক ফারমানকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি আরও দু’জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির নাম মামলায় রাখা হয়েছে। দাঙ্গা, ইচ্ছাকৃত ভাবে আঘাত করা এবং খুনের চেষ্টার মতো ধারায় মামলা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।


