ডোমকলের গড়াইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং ডোমকলের বিডিওর কথোপকথন বলে দাবি করা একটি অডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অডিওটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হলেও এর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ওই অডিওতে দু’জন ব্যক্তির মধ্যে পঞ্চায়েতের কাজ এবং টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলতে শোনা যাচ্ছে। তাঁদের একজনকে অন্যজনকে কোনও ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। অপর ব্যক্তি ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। এরপরও প্রথম ব্যক্তি তাঁকে কাজটি করিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। কথোপকথনে পঞ্চায়েতের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং অন্য কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রসঙ্গও উঠে আসে।সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ফোনের এক প্রান্তে গড়াইমারি পঞ্চায়েতের প্রধান হাসানুজ্জামান মণ্ডল এবং অন্য প্রান্তে ডোমকলের বিডিও শঙ্খদ্বীপ দাস ছিলেন। তবে এই দাবি এখনও নিশ্চিত নয়। অডিওটি কবে এবং কোন পরিস্থিতিতে রেকর্ড করা হয়েছিল, তা নিয়েও স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি বিডিও শঙ্খদ্বীপ দাস। তবে তাঁর দাবি, অনুমতি ছাড়াই তাঁর ফোনের কথাবার্তা রেকর্ড করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানা গিয়েছে।প্রশাসনের একটি সূত্রের বক্তব্য, অডিওটি পুরনো হতে পারে। পঞ্চায়েতের কোনও কাজ দ্রুত করার বিষয় নিয়ে অতীতে এমন আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলেও ওই সূত্রের দাবি। আবার বিডিওর অভিযোগের পরেই পুরনো কথোপকথন পরিকল্পিতভাবে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন প্রশাসনের একাংশ।অন্যদিকে, গড়াইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হাসানুজ্জামান মণ্ডল পাল্টা দাবি করেছেন, তাঁর কাছে এমন একটি নয়, প্রায় ১২টি ফোন রেকর্ডিং রয়েছে। সেগুলি তিনি আদালতে জমা দেওয়ার জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছেন বলেও জানিয়েছেন।প্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা কাটমানি সংক্রান্ত এফআইআর নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। বিডিওর সঙ্গে আপস করে কোনও অনিয়মে জড়াতে রাজি না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন হাসানুজ্জামান। বিভিন্ন সময়ে বিডিও তাঁর সঙ্গে সহযোগিতা করেননি বলেও দাবি করেছেন তিনি।ভাইরাল অডিওর সত্যতা, রেকর্ডিংয়ের সময় এবং এর পিছনের পরিস্থিতি নিয়ে এখন একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা কী, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানা গিয়েছে।
‘টাকা নিয়ে কাজ করান’ – পঞ্চায়েত প্রধানকে পরামর্শ বিডিও-র! ভাইরাল অডিও ঘিরে ডোমকলে চাঞ্চল্য
Popular Categories


