সাংবাদিক রবি নায়ারের দিল্লি ও কেরালার বাসভবনে গুজরাট পুলিশের তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তদন্তমূলক সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত নায়ারের বাড়িতে পুলিশের এই অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিপিএম-এর সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। তাঁর অভিযোগ, আদানি গোষ্ঠীকে নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই নানা আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মুখে পড়ছেন সাংবাদিকটি।সোমবার, ১৭ অগস্ট গুজরাট পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দল দিল্লি পুলিশের সঙ্গে মিলে নায়ারের দিল্লির বাড়িতে তল্লাশি চালায়। একই দিনে কেরালার তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযানের সময় নায়ার বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যবহৃত বেশ কিছু বৈদ্যুতিন সরঞ্জামও পুলিশ নিয়ে যায়।পুলিশের হাতে যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে তিনটি ল্যাপটপ, দুটি মোবাইল ফোন এবং একটি আইপ্যাড। গুজরাট পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে চলা একটি তদন্তের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। আমেদাবাদের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হয় বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, সমস্ত নিয়ম মেনেই অভিযান হয়েছে।রবি নায়ারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর একটি প্রতিবেদনের সঙ্গে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, সরকারি নির্দেশের পর রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বিমা সংস্থা এলআইসি আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থায় বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছিল। সেই প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করেই পরে নায়ারের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়।এছাড়াও, আদানি এন্টারপ্রাইজেসের করা একটি ফৌজদারি মানহানির মামলায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নায়ারকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল গান্ধীনগরের মানসার একটি আদালত। ২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তাঁর একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই মামলা হয়েছিল। আদালত তাঁকে এক বছরের সাধারণ কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছিল। পরে এক মাসের জন্য সাজা স্থগিত রাখা হয়।তল্লাশির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এমএ বেবি বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ থাকা জরুরি। তাঁর অভিযোগ, বড় সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা না নিয়ে সাংবাদিককে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে নিশানা করা হচ্ছে।ঘটনার পর সাংবাদিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নায়ারের বাড়ি থেকে বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি তদন্তের স্বার্থে কতটা প্রয়োজনীয় ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুসারেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
Popular Categories

