গুজরাটের ভাবনগর জেলায় ভেজাল মদের বিষক্রিয়ায় অন্তত ৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও ৩০ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিদেশি ব্রান্ডের লেবেল মেরে এই প্রাণঘাতী রাসায়নিক বিক্রি করা হচ্ছিল। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে ১২ জনকে আটক করেছে এবং মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে এক ভয়ানক চক্রান্ত। মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা নরেন্দ্র সিং যাদব ওরফে ‘ডাক্তার’ নামে এক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে গৌতম সোলাঙ্কি নামে এক বুটলেগারের ডেরায় এই বিষাক্ত তরল তৈরি হয়েছিল। খালি বোতল, নকল রয়্যাল স্ট্যাগের স্টিকার ও বিষাক্ত মিথানল জোগাড় করা হয়েছিল আমেদাবাদের সারখেজ এলাকা থেকে। নামী ব্র্যান্ডের লোগো লাগিয়ে এই কেমিক্যাল বিক্রি করা হলেও, ফরেন্সিক পরীক্ষায় দেখা যায় তাতে ৩৮.৫৯ শতাংশই ছিল বিষাক্ত মিথানল এবং ইথানল ছিল মাত্র ০.৯৪ শতাংশ।
ঘটনার শুরু খাড়াকাড়ি গ্রামের একটি ঘরোয়া পার্টি থেকে। সেখান থেকে খবর পেয়ে প্রশাসন তৎপর হয়। কিন্তু দ্রুতই ভাবনগর শহরের একাধিক অংশে এই বিষাক্ত মদ ছড়িয়ে পড়ে। এমনকী, মদ প্রস্তুতকারক নরেন্দ্র সিং নিজেও তা পান করে মারা যান। মূল অভিযুক্ত রইস ও তার সহযোগীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
শুকনো রাজ্য হিসেবে পরিচিত গুজরাটে মদের কেনাবেচা ও সেবন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমেদাবাদ থেকে বিশেষ চিকিৎসক দল এনে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমগ্র ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে রাজ্য মনিটরিং সেলকে বিশেষ তদন্তের দায়িত্ব সঁপেছে প্রশাসন।


