উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগর জেলার পিপরা রামলাল গ্রামে প্রায় ১৪ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে থাকা আরাবিয়া জিয়া-উল-উলুম মাদ্রাসা, যা মক্তব মাদ্রাসা নামেও পরিচিত, মঙ্গলবার বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সরকারি জমি দখল করে মাদ্রাসার একাংশ তৈরি করা হয়েছিল—এই অভিযোগে আদালতের নির্দেশের পরই প্রশাসন এই পদক্ষেপ নেয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালে। গ্রামের পাঁচ বাসিন্দা ডোমরিয়াগঞ্জ তহশিলদারের আদালতে আবেদন করে অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার জন্য সরকারি জমি দখল করা হয়েছে। পরের বছর ওই আদালত জায়গাটি খালি করার নির্দেশ দেয়। মাদ্রাসার দেখভালের দায়িত্বে থাকা আবদুল সালাম সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একই বছর জেলা শাসকের আদালতে আবেদন করেন। প্রায় তিন বছর ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়ার পর গত ১৪ অগস্ট সেই আবেদন খারিজ করে তহশিলদারের নির্দেশ বহাল রাখে জেলা শাসকের আদালত। এরপর প্রশাসন জায়গা খালি করার নোটিস দেয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্থাপনা সরানো না হওয়ায় মঙ্গলবার শুরু হয় ভাঙার কাজ।
সকাল ৭টা নাগাদ প্রশাসনের উপস্থিতিতে অভিযান শুরু হয়। ঘটনাস্থলে ছিলেন ডোমরিয়াগঞ্জের এসডিএম বিবেকানন্দ মিশ্র, সিও ব্রিজেশ বর্মা এবং বাঁসি সিও শিবেন্দু সিং। পাঁচটি থানার প্রায় ১০০ জন পুলিশকর্মীও মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে মাদ্রাসার সাতটি ঘর, একটি দোকান এবং হলের অর্ধেক অংশ ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসনের দাবি, প্রথমে ব্যক্তিগত জমিতে মাদ্রাসাটি তৈরি হলেও পরে ধীরে ধীরে পাশের সরকারি জমিতে নির্মাণ বাড়ানো হয়। সরকারি নথিতে ওই জমির প্রায় ৯ হাজার বর্গফুট খেলার মাঠ হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে।
মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৪০০ শিশু পড়াশোনা করত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ১৯৩৮ সালে গ্রামে তৈরি হয়েছিল এবং ১৯৬৭ সালে বর্তমান জায়গায় স্থানান্তর করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়। সমাজবাদী পার্টির ডোমরিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৈয়দা খাতুন, জেলা সভাপতি লালজি যাদব-সহ ৫০ জনের বেশি কর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। তাঁরা ভাঙার কাজ বন্ধের দাবি জানান। পুলিশ তাঁদের বাধা দিলে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং সামান্য ধস্তাধস্তিও হয়। পরে এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়।
আম আদমি পার্টির উত্তরপ্রদেশ শাখা এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছে। কংগ্রেস নেতা জাভেদ আশরফ খানও ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন। সমাজকর্মী আবদুর রকিব খান বলেন, ধর্মীয় পরিচয় না দেখে সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই একই আইন প্রয়োগ করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, এমন পদক্ষেপে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা থাকা জরুরি।

