দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে নতুন করে সমস্যায় পড়ছেন যাত্রীরা। অনলাইনে বুকিংয়ের সময় আচমকাই আইআরসিটিসির অ্যাকাউন্ট থেকে ‘লগ আউট’ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে। ফলে ফের অ্যাকাউন্টে ঢুকে বুকিং শুরু করতে করতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে কনফার্মড টিকিট। পুজোর আগে এমন সমস্যায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দুর্গাপুজো আর মাস দু’য়েক পরেই। পুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দূরপাল্লার ট্রেনে বাড়তে শুরু করেছে টিকিটের চাহিদা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই সময় সাধারণত ট্রেনের টিকিটের জন্য ব্যাপক চাপ থাকে। তার মধ্যেই অনলাইন বুকিং ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত সমস্যার অভিযোগ রেল কর্তৃপক্ষের চিন্তা বাড়িয়েছে।
যাত্রীদের একাংশের দাবি, ইন্টারনেট সংযোগে কোনও সমস্যা না থাকলেও টিকিট কাটার সময় ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ঠিকমতো কাজ করছে না। বুকিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে হঠাৎ অ্যাকাউন্ট থেকে বেরিয়ে যেতে হচ্ছে। এরপর আবার ব্যবহারকারীর নাম, পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রবেশ করে বুকিংয়ের জায়গায় ফিরতে সময় চলে যাচ্ছে। ততক্ষণে পছন্দের ট্রেনের আসন আর থাকছে না।
শুধু কনফার্মড টিকিট নয়, অনেক ক্ষেত্রে RAC বা ওয়েটিং লিস্টের টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। বদলে স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে ‘রিগ্রেট’ বা ‘নো রুম’-এর মতো বার্তা। ফলে যাঁরা শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা আরও বেশি।
সম্প্রতি দেশের ৩২৪টি জেলার প্রায় ৯০ হাজার অনলাইন ট্রেন টিকিট ব্যবহারকারীর মধ্যে একটি বেসরকারি সংস্থা সমীক্ষা চালায়। সেখানে অর্ধেকের বেশি মানুষ আইআরসিটিসি অ্যাকাউন্ট থেকে হঠাৎ বেরিয়ে যাওয়ার সমস্যার কথা জানিয়েছেন। এই তথ্য সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে আরও গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে রেল।
এর পাশাপাশি অনলাইনে টিকিট কাটার সময় ‘কিস্তিতে টাকা দেওয়ার’ একটি বিকল্প কিছু যাত্রীর সামনে আসছে। সেই অপশন নিয়ে বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে। রেল মন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রের দাবি, রেল নিজে এমন কোনও কিস্তি-ভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেনি। কয়েকটি ব্যাঙ্ক নিজেদের পরিষেবার অংশ হিসেবে এমন সুবিধা দিতে পারে। তাই এই পরিষেবার দায় রেলের নয় বলেই জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রযুক্তিগত সহায়তাকারী সংস্থা ‘ক্রিস’-কে দ্রুত সমস্যার সমাধানের নির্দেশ দিয়েছে রেল মন্ত্রক। পুজোর মরশুম শুরু হওয়ার আগে অনলাইন টিকিট বুকিং ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে জানা গিয়েছে।


