দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ে রাস্তা, টানেল তৈরির জন্য পাহাড় কাটা হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর উপর বাঁধ, ব্যারেজ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি হয়েছে। নদীর কাছাকাছি গড়ে উঠছে বাড়ি, হোটেল ও রিসর্ট। ভূ-বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশবিদদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে বড়সড় বিপর্যয় হলে অল্প সময়েই বহু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের ফল ভয়াবহ হতে পারে। তাই এখনই পরিকল্পিত উন্নয়ন ও কঠোর নজরদারির প্রয়োজন।
সিকিমের দক্ষিণ লোনক হ্রদের বিপর্যয় হোক বা নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ হড়পা বান—পরপর এমন ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে উত্তরবঙ্গেও। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পাহাড় কাটা, অপরিকল্পিত নির্মাণ এবং নদীর গতিপথে মানুষের হস্তক্ষেপ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বড় বিপদ নেমে আসতে পারে।
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান সুবীর সরকার জানিয়েছেন, সিকিম ও নেপালের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। তিস্তার মতো প্রবল স্রোতের নদীতে আরও বাঁধের প্রয়োজন আছে কি না, পাহাড় ও ডুয়ার্সে নদীর ধার ঘেঁষে নির্মাণ কতটা নিরাপদ—তা দ্রুত খতিয়ে দেখা দরকার।
উত্তরবঙ্গে হিমবাহনির্ভর ৬৯টি নদী রয়েছে। তিস্তা, তোরসা, মহানন্দা, কালজানি-সহ একাধিক নদীতে পলি, বালি ও পাথর জমে জলধারণের ক্ষমতা কমেছে। তার উপর নদীর উপর একের পর এক বাঁধ ও ব্যারেজ তৈরি হয়েছে।
পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের প্রধান শশাঙ্ককুমার গায়েনের মতে, নেপালের ঘটনা বড় সতর্কবার্তা। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রেখেই উন্নয়নের পরিকল্পনা করা উচিত।


