রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগেই দলের অন্দরের কিছু সমস্যা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানিয়েছিলেন, সব জায়গায় তোলাবাজি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। বাইরে থেকে দলে আসা কিছু নেতার পুরনো অভ্যাসও সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।
ক্ষমতায় আসার পর সেই আশঙ্কার কিছুটা ছবি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি বিজেপির একাংশের। অভিযোগ, গ্রেফতারি এড়াতে বা সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থেকে বাঁচতে কয়েক জন তৃণমূল নেতা স্থানীয় বিজেপি নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন। বিষয়টি দলের নিচুতলার কর্মীদের অনেকেই ভালোভাবে নিচ্ছেন না বলে খবর।
এর মধ্যেই তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ বিজেপির জোটসঙ্গী হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যাঁদের একসময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করতে দেখা গিয়েছিল, তাঁদেরই এখন মোদীর প্রশংসা করতে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি সাধারণ মানুষের নজরেও পড়ছে। বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের ‘জিতলেই প্রার্থী’ মন্তব্য ঘিরেও দলের ভিতরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই RSS ঘনিষ্ঠ পত্রিকা ‘স্বস্তিকা’-য় বিজেপিকে সতর্ক করা হয়েছে। তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেস থেকে আসা অভিযুক্ত নেতা-কর্মীদের দলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
পত্রিকাটির বক্তব্য, মানুষ বিজেপির উপর আস্থা রেখেই ক্ষমতায় এনেছে। সেই বিশ্বাসে সামান্য চিড় ধরলেও বড় ক্ষতি হতে পারে। এমনকি ২ শতাংশ ভোটারও যদি মনে করেন বিজেপি আগের সরকারেরই আর একটি রূপ, তাহলে ৯০ শতাংশ ভোটার দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন—এমনই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এই বার্তাকে রাজ্য বিজেপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অশনি সংকেত বলেই মনে করা হচ্ছে।


