খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)-এর। পরিদর্শনের সময় একাধিক গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ায় ইসকন জুহুর পরিচালনায় থাকা তিনটি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে শুরু করে খাবার সংরক্ষণে ত্রুটি, দুর্বল নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং খাদ্য ও পানীয় পরীক্ষায় ঘাটতির মতো একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
FDA সূত্রে খবর, ৩ সেপ্টেম্বর ইসকন জুহুর তিনটি খাদ্য প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন চালানো হয়। লাইসেন্স স্থগিত হওয়া ইউনিটগুলির মধ্যে রয়েছে ‘হরে কৃষ্ণ ল্যান্ড’-এর প্রধান খাদ্য স্থাপনা, ‘ইসকন জুহু ফুড সার্ভিসেস-রেস্তোরাঁ’ এবং ‘গোবিন্দাস রেস্তোরাঁ’।
‘হরে কৃষ্ণ ল্যান্ড’-এর প্রধান খাবার তৈরির জায়গায় কাঁচামাল পরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা, অনুপযুক্তভাবে খাদ্য সংরক্ষণ, পোকামাকড়ের উপদ্রব এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিষ্কাশন ব্যবস্থায় ঘাটতি খুঁজে পান পরিদর্শকরা। এছাড়াও জল পরীক্ষা, কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকাকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং অডিট সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্রও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, ‘গোবিন্দাস রেস্তোরাঁ’-য় কোল্ড স্টোরেজে জমে থাকা জল, বন্ধ ড্রেন এবং পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি ধরা পড়ে। পাশাপাশি কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা করে রাখার ক্ষেত্রেও যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না বলে FDA জানিয়েছে।
শুধু ইসকন নয়, মহারাষ্ট্রজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহত্তর অভিযান চালাচ্ছে FDA। এই অভিযানে মুম্বইয়ের ছয়টি, কোঙ্কন বিভাগের তিনটি এবং পুনে বিভাগের ১১টি খাদ্য প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। পুনেতে আরও ১২টি প্রতিষ্ঠানকে পরিদর্শনের আওতায় আনা হয়। এর মধ্যে বৈধ খাদ্য লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা চালানোর অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, মালাড পশ্চিমের ‘ড্রোগেরিয়া সেলার্স প্রাইভেট লিমিটেড’—যা জেপ্টোর সঙ্গে যুক্ত—এর লাইসেন্সও সাসপেন্ড করেছে FDA। সেখানে ডিমের প্যাকেট রাখা বাক্স এবং পানীয় রাখার টেবিলে জীবন্ত আরশোলা পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। এছাড়া দুধ, পনির ও দই ২ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সংরক্ষণের পরিবর্তে ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হচ্ছিল। কোল্ড স্টোরেজের তাপমাত্রাও ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল বলে পরিদর্শনে ধরা পড়ে। বিক্রির জন্য রাখা তাক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবারও উদ্ধার করা হয়।
খারঘরের ‘মটেশ্বরী মিল্ক’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে FDA। দুধের লেবেলিংয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে অভিযোগ। খোলা ‘টোন্ড মিল্ক’ গরুর দুধ হিসেবে এবং খোলা ‘স্ট্যান্ডার্ডাইজড মিল্ক’ মহিষের দুধ হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, কুর্লায় IRCTC-র সঙ্গে যুক্ত একটি বেস কিচেনের কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। পরিদর্শনের সময় সেখানে আরশোলা, খোলা অবস্থায় রাখা খাবার এবং খোলা আবর্জনার স্তূপের কাছে খাবার প্রস্তুত করার মতো অনিয়ম ধরা পড়ে বলে FDA সূত্রে খবর। আরও চারটি খাদ্য প্রতিষ্ঠানকে পরিস্থিতির উন্নতির জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম যাতে কোনও প্রতিষ্ঠানই উপেক্ষা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।


