ওড়িশার বালেশ্বর জেলার বনাঞ্চল থেকে পাঁচটি শিশু ওরাংওটাং উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই বিরল প্রাণীগুলিকে কী ভাবে ভারতে আনা হল, তা নিয়ে যখন তদন্ত চলছে, তখন আরও গুরুতর আশঙ্কার কথা জানাল ‘হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিম্যালস-ইন্ডিয়া’ (HWAI)। সংস্থাটির দাবি, অত্যন্ত জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে যে, এই শিশু ওরাংওটাংগুলির মায়েদের হত্যা করার পর তাদের ধরে আনা হয়েছিল।
HWAI-এর বন্যপ্রাণী সুরক্ষা বিভাগের পরিচালক সুমন্ত বিন্দুমাধবের বক্তব্য, এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তাঁর দাবি, ভারতে এমন কিছু আইনি ফাঁক রয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে বন্দিদশায় রাখার অনুপযুক্ত প্রাণীদের ব্যক্তিগত মালিকানা বা অবৈধ বাণিজ্য চালানো সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে ‘গ্রেট এপ’ বা বৃহৎ নরবানরদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও গুরুতর।
বিন্দুমাধব বলেন, জুন মাসে প্রকাশিত সংস্থার একটি আইনি বিশ্লেষণেও এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। তাঁর কথায়, যে সমস্ত প্রজাতির প্রাণীর ক্ষেত্রে বন্দিদশা স্বাভাবিক বা উপযুক্ত নয়, তাদের ব্যক্তিগত মালিকানা নিয়ন্ত্রণে ভারতে এখনও যথেষ্ট আইনি কাঠামো নেই।
এই প্রসঙ্গে আগের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের নভেম্বরে মুম্বইয়ের একটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানোর সময় একটি শিশু ওরাংওটাংয়ের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। এবার ওড়িশায় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হল আরও পাঁচটি শিশু ওরাংওটাং।
পাঁচটি প্রাণীর উদ্ধারের ঘটনায় অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচারচক্রের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট মহল। বিন্দুমাধবের বক্তব্য, জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে যে মায়েদের হত্যা করার পর শিশু ওরাংওটাংগুলিকে ধরে আনা হয়েছিল। আবার অত্যন্ত শোচনীয় বন্দিদশায় তাদের প্রজনন করানো হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তাঁর মতে, আইনি ব্যবস্থার এই ফাঁকফোকরগুলি বন্ধ না হলে অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের প্রকৃত ব্যাপকতা বোঝা কঠিন। কোনও পাচারচক্র বা অবৈধ ব্যবস্থার কোনও একটি অংশ ব্যর্থ হয়ে প্রকাশ্যে চলে এলেই কেবল তার কিছুটা হদিস পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
ওড়িশার জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচ শিশু ওরাংওটাংয়ের উৎস, ভারতে তাদের প্রবেশের পথ এবং তাদের সঙ্গে কোনও আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারচক্রের যোগ রয়েছে কি না—এখন সেই প্রশ্নগুলিরই উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।


