রেজিনগরে উপনির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এবার বিরোধী দলগুলিকে একসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, নিজের পুরনো আসন রেজিনগর নিয়ে কি কিছুটা চিন্তায় রয়েছেন তিনি?
মঙ্গলবার নিজের দলের কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন হুমায়ুন। সেখানেই তিনি বলেন, বিরোধীদের মধ্যে মতের পার্থক্য থাকলেও বিজেপিকে মোকাবিলা করতে হলে সবাইকে এক জায়গায় আসতে হবে। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত বিরোধ বা রাজনৈতিক অহং সরিয়ে রেখে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমঝোতা তৈরি করা দরকার।
হুমায়ুনের বক্তব্য, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে বিরোধীদের হাতে থাকা ৮৬ জন বিধায়ক যদি একসঙ্গে কাজ করেন, তাহলে বিজেপির বিরুদ্ধে শক্তিশালী লড়াই দেওয়া সম্ভব। তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম, আইএসএফ এবং তাঁর নিজের দলের প্রতিনিধিদের এক মঞ্চে আসার কথাও বলেন তিনি।
শুধু দলগুলির নাম উল্লেখ করেই থামেননি হুমায়ুন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুজন চক্রবর্তী, নওশাদ সিদ্দিকী এবং কংগ্রেস নেতৃত্বকে নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ কমিয়ে আলোচনায় বসার পরামর্শ দেন তিনি। বাংলার স্বার্থে বিরোধীদের মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন।
এর আগে রেজিনগর আসনটি কংগ্রেসকে দেওয়ার পক্ষে কথা বলেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপিকে ঠেকাতে কংগ্রেসকে শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। যদিও রেজিনগর নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দলের নেতা অধীর চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, এই কেন্দ্রে কংগ্রেস নিজেদের সংগঠনের শক্তির উপর ভরসা করেই লড়াই করবে।
রেজিনগর আসনের সঙ্গে হুমায়ুনের রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নিজের দল গড়ে তিনি রেজিনগর ও নওদা—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন। পরে নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছাড়েন তিনি। রেজিনগরে তিনি ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট পেয়েছিলেন।
এবার উপনির্বাচনে নিজের ছেলেকে প্রার্থী করার কথা জানিয়েছেন হুমায়ুন। সেই পরিস্থিতিতে তাঁর মুখে বিরোধী ঐক্যের কথা শুনে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের সমর্থন চাওয়ার পিছনে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক হিসাব রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। ভোটের ফল প্রকাশ হবে ৯ অক্টোবর। ফলে তার আগে রেজিনগরে জোটের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


