বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (ইউআইটি)-তে বিশ্বকর্মা পুজোকে কেন্দ্র করে তুমুল অশান্তি। বুধবার রাতে কলেজ চত্বরে এবিভিপি-এর দুই ছাত্রগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের জেরে আতঙ্ক ছড়ায়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, কয়েকজন অধ্যাপক ও কর্মী নিরাপত্তার জন্য বাথরুমে গিয়ে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হন। অধ্যক্ষের ঘরেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, বিশ্বকর্মা পুজোকে কেন্দ্র করেই বিবাদের সূত্রপাত। এতদিন ইউআইটিতে একটি পুজোই হত। সেখানে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের পড়ুয়ারা অংশ নিতেন। কিন্তু এ বছর একটি গোষ্ঠীর তরফে আরও একটি পুজো করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠে। পরে অশান্তি এড়াতে কলেজ কর্তৃপক্ষ দু’টি পুজোর অনুমতি দেয়। কিন্তু তাতেও সমস্যা মেটেনি। বরং দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এরপরই শুরু হয় হাতাহাতি। অভিযোগ, বাইরে থেকে কয়েকজনকে কলেজে নিয়ে আসা হয়। তাঁদের হাতে লাঠি ও লোহার রড ছিল বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন পড়ুয়া। দীর্ঘ সময় ধরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি চলে। ঘটনায় সাত থেকে আটজন ছাত্র আহত হয়েছেন বলে কলেজ সূত্রে খবর।
আহত ছাত্র সৌরভকুমার সিংয়ের অভিযোগ, একই জায়গায় দু’টি পুজো না করার কথা বলার পরেই কয়েকজন ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালান। তাঁর দাবি, বহিরাগতদের নিয়ে এসে লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করা হয়েছে। এমন ঘটনা কলেজে আগে কখনও দেখা যায়নি বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, এক পড়ুয়ার দাবি, দু’টি পুজো হলে কারও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তাঁর অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় কলেজের চেয়ার, টেবিল এবং অন্যান্য জিনিসপত্র নষ্ট করা হয়। অধ্যক্ষের ঘরের আসবাবও ভাঙা হয়েছে। বিভিন্ন নথি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। কলেজের বাইরে রাখা কয়েকটি বাইকেও ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর এবিভিপির সাধারণ সম্পাদক সুশোভন চৌধুরী সংগঠনের যোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এটি কলেজের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং ইউআইটিতে এবিভিপির কোনও ইউনিটই নেই। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ গোলমালে জড়ালে তার দায় এবিভিপি নেবে না। তবে বহিরাগতরা কীভাবে কলেজে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গোটা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলা ও ভাঙচুরে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। পড়ুয়াদের দাবি, দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে ফের একই ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে।


