ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও অনুতাপ নেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজ়কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, একই পরিস্থিতি ফের তৈরি হলে তিনি একই পদক্ষেপ করবেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি ‘অনুতাপ’ শব্দটিতে বিশ্বাস করি না। আবারও যদি এমন পরিস্থিতি আসে, আমি যা করেছি, সেটাই করব।’’
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাঁর সমর্থকদের একাংশ হতাশ হয়ে পড়েছেন কি না, সেই প্রশ্নেরও জবাব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, সমর্থকরা হতাশ নন। বরং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্য তাঁরা গর্বিত।
তবে যুদ্ধের প্রভাব ইতিমধ্যেই মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। ইরান যুদ্ধের জেরে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের উপর চাপ বাড়ছে। সেই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সমস্যাও রয়েছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই পরিস্থিতি ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলে কয়েকটি জনমত সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিলেছে।
ট্রাম্প নিজেও মেনে নিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে। তবে তাঁর দাবি, ‘‘মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হবে।’’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাঝামাঝি সময়ে, অর্থাৎ প্রতি চার বছর অন্তর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি এবং হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৩৫টি সাধারণ আসনের সব ক’টিতে ভোটগ্রহণ হবে। পাশাপাশি হাউসের ভোটদানের ক্ষমতাহীন ছ’টি আসনের মধ্যে পাঁচটি, ৩৬টি অঙ্গরাজ্য এবং তিনটি টেরিটরির গভর্নর পদেও নির্বাচন হবে।
ঐতিহাসিকভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের কংগ্রেসের দুই কক্ষেই আসন কমার প্রবণতা দেখা যায়। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
কয়েকটি প্রাক্-নির্বাচনী সমীক্ষায় রিপাবলিকানদের খারাপ ফলের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আইনসভার দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের টেক্কা দিতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে। পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানির দাম বাড়ার আবহে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও কমছে বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর অনুমোদন-রেটিং ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের আসন কমলেও, ব্যতিক্রমীভাবে শাসকদলই কংগ্রেসে বেশি আসন পেলে তা প্রেসিডেন্টের প্রতি জনসমর্থনের শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে মতবিরোধের আবহে এমন ফল হলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে সেই সম্ভাবনা সম্পর্কে তাঁর নিজের আশাবাদ কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

