হুগলির জাঙ্গিপাড়ায় বিজেপির একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চে রমেশ মাহাতোকে দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। হাওড়া ও হুগলি এলাকায় কুখ্যাত দুষ্কৃতী হিসেবে পরিচিত হুব্বা শ্যামলের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন রমেশ—এমনই দাবি বিভিন্ন মহলের। হুব্বা শ্যামল খুনের ঘটনাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা যায়।
বৃহস্পতিবার জাঙ্গিপাড়ার খুড়িগাছি গ্রামে বিজেপির একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চে রমেশ মাহাতোকে দেখা যায়। একটি ভিডিয়োয় তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা দিতেও দেখা গিয়েছে। তবে ওই ভিডিয়োর সত্যতা এনবিটিভি যাচাই করেনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, রমেশ মাহাতোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। খুন, তোলাবাজি এবং জমি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় বা তাঁর বর্তমান আইনি অবস্থার বিস্তারিত তথ্য এই মুহূর্তে স্পষ্ট নয়।
ঘটনাটি নিয়ে সরব হয়েছেন জাঙ্গিপাড়ার বিজেপি বিধায়ক প্রসেনজিৎ বাগ। তাঁর দাবি, রমেশ মাহাতো একজন ‘কুখ্যাত দুষ্কৃতী’ এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৩০টি মামলা রয়েছে। দলেরই একটি অনুষ্ঠানে তাঁকে কীভাবে মঞ্চে নিয়ে আসা হল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
প্রসেনজিৎ বাগ বলেন, অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কারা রমেশ মাহাতোকে মঞ্চে তুললেন, কেন তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হল এবং এই বিষয়ে দলের কারও অনুমতি ছিল কি না—সবটাই খতিয়ে দেখা হবে।
বিধায়কের অভিযোগ, ‘‘রমেশ মাহাতো এক জন কুখ্যাত দুষ্কৃতী। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৩০টি মামলা রয়েছে। তাঁর কালো সাম্রাজ্য হাওড়া-হুগলির বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। তাঁকে জাঙ্গিপাড়ায় এনে মানুষকে ভুল বার্তা দেওয়া হচ্ছে।’’
তিনি আরও জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে দলের জেলা সভাপতি এবং রাজ্য সভাপতির কাছে রিপোর্ট পাঠানো হবে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, দলের কোনও অনুমোদন ছাড়াই কি স্থানীয় স্তরে রমেশ মাহাতোকে বিজেপির অনুষ্ঠানের মঞ্চে আনা হয়েছিল, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে? বিধায়কের বক্তব্য অনুযায়ী, পুরো বিষয়টি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অপরাধ জগতের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগ রয়েছে এমন এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক মঞ্চে সংবর্ধনা দেওয়ার দৃশ্য সামনে আসায় অস্বস্তিতে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও।


