ভাগীরথীর জলস্তর বাড়তেই ফের প্লাবিত মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকা। শুক্রবারও নদীর দু’কূল ছাপিয়ে জল ঢুকছে একাধিক লোকালয়ে। গত বুধবার থেকে ফরাক্কা, সূতি, সামশেরগঞ্জ এবং রঘুনাথগঞ্জের নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলিতে জল ঢুকতে শুরু করেছে। তার মধ্যেই নতুন করে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কয়েক হাজার পরিবার।
ফরাক্কা ব্যারাজের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপান্ডে জানিয়েছেন, বর্তমানে ফরাক্কা ব্যারাজ থেকে প্রায় ১৭.৯৯ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, ভাগলপুরেও জলস্তরের চাপ কিছুটা কমেছে। শুক্রবার অথবা শনিবার থেকে জলস্তর কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। আপাতত বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে এবং নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরাক্কার খোদাবন্দপুর, মুস্কিনগর ও সাঁকোপাড়া-সহ একাধিক গ্রাম জলবন্দি হয়ে পড়েছে। গৃহপালিত পশুদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বহু পরিবার। চরকুলি দিয়ার নয়নসুখ এলাকাতেও পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নদীর পাড় ভেঙে হু-হু করে জল ঢুকছে লোকালয়ে।
একই পরিস্থিতি সামশেরগঞ্জের ইউসুফপুরেও। সেখানে নদীর জল ঢুকে ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। পাশের সূতির লক্ষ্মীপুর এলাকাতেও জল ঢুকছে বলে স্থানীয়দের দাবি। গঙ্গার পাশাপাশি পদ্মার জলস্তর বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সেকেন্দ্রার খেজুরতলা ঘাট এলাকায় নদী পারাপারের অন্যতম প্রধান ভরসা বাঁশের সাঁকোটিও জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। ফলে ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বড়শিমুল গ্রামে নদীর জল ঢুকে রাস্তা-ঘাট ডুবে গিয়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান জল দাঁড়িয়ে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রতিদিনই নতুন করে জল বাড়ছে এবং একের পর এক এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
জলস্তর বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙনের ঘটনাও বাড়ছে। ফরাক্কার নয়নসুখ এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। রঘুনাথগঞ্জ ও লালগোলার মধ্যবর্তী তারানগর এলাকাতেও গত কয়েক দিন ধরে গঙ্গার পাড় ভাঙছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই কয়েক বিঘা চাষের জমি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন কৃষকরা।
তবে আতঙ্কের মধ্যেই কিছুটা আশার কথা শুনিয়েছে জেলা সেচ দফতর। জঙ্গিপুর সেচ দফতরের আধিকারিকদের মতে, উজানে বৃষ্টির জেরেই সাময়িকভাবে গঙ্গা ও পদ্মার জলস্তর বেড়েছে। তার ফলেই নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলিতে জল ঢুকেছে। তবে পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি বলেই দাবি তাঁদের।
সেচ দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আগামী এক-দু’দিনের মধ্যে গঙ্গা ও পদ্মার জলস্তর কমতে শুরু করতে পারে। এই মুহূর্তে বড়সড় বন্যার আশঙ্কা নেই। তবে নদীর পাড় এবং জলস্তরের উপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।
জলস্তর কমার প্রশাসনিক আশ্বাস মিললেও নদীভাঙন এবং লোকালয়ে জল ঢোকার ঘটনায় মুর্শিদাবাদের নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের উদ্বেগ এখনও কাটেনি। ভিটেমাটি ও চাষের জমি রক্ষাই এখন তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় চিন্তা।


