আর কোনও জল্পনা নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কর্মরত শিক্ষকদের আবশ্যিক শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (TET)-এ বসার সুযোগ করে দিতে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। শুক্রবার সরকারের তরফে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে বছরে অন্তত দু’বার TET নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আগের নির্ধারিত সময়সীমা এক বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে। এরপর আর সময়সীমা বাড়ানো হবে না বলেও আদালতের নির্দেশে উল্লেখ রয়েছে। ফলে ওই সময়সীমার মধ্যে কর্মরত শিক্ষকদের TET-এ বসার সুযোগ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে রাজ্য।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে শিক্ষক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কারণ, প্রায় এক লক্ষ শিক্ষককে এই পরীক্ষায় বসতে হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত শিক্ষকদের আবশ্যিক TET থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি উঠলেও, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের জেরে সেই সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিত।
ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের শিক্ষক সেলের সভাপতি অশোক রুদ্র বলেন, ‘‘আগে আমরা অ্যাফেকটেড ট্রেইন্ড টিচার্স নামে সর্বোচ্চ আদালতে মামলা করেছিলাম। ফের আমরা সেই নামেই মামলার পথে হাঁটছি। মুখ্যমন্ত্রীকেও আবেদন জানাচ্ছি, নির্দিষ্ট সময়ের আগে নিয়োগ হওয়া শিক্ষকদের যেন বাধ্যতামূলক TET-এ বসতে না হয়। এ ব্যাপারে তিনি কেন্দ্রের কাছে দরবার করুন।’’
অন্যদিকে, বিজেপি শিক্ষা সেলের সহ-আহ্বায়ক পিন্টু পাড়ুইও কর্মরত শিক্ষকদের TET থেকে অব্যাহতির দাবিতে সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা এখনও বলছি, কোনও শিক্ষককেই TET দিতে হবে না। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি দেখছেন। কেন্দ্রের কাছে তিনি অর্ডিন্যান্স জারির আবেদন জানাবেন বলে আশা রাখি।’’
রাজ্য সরকারের নির্দেশের ফলে SSC এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে বছরে অন্তত দু’টি করে TET আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে পরীক্ষার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ, আবেদন প্রক্রিয়া এবং যোগ্যতার বিস্তারিত নির্দেশিকা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
ফলে একদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পরীক্ষার সুযোগ তৈরি করার প্রস্তুতি, অন্যদিকে কর্মরত শিক্ষকদের TET থেকে অব্যাহতির দাবিতে রাজনৈতিক ও শিক্ষক সংগঠনগুলির চাপ—এই দুইয়ের মধ্যে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজ্যের শিক্ষা মহলে।


