Wednesday, September 23, 2026
25 C
Kolkata

SIR-এর নামে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ! ১০ মাসে ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার

দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা SIR-কে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভিতরের মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক যোশী অন্তত ১৪ বার কমিশনের কিছু সিদ্ধান্ত ও কাজ নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাঁদের জানানো হয়নি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে।

বিহারে ২০২৫ সালের জুনে SIR শুরু হওয়ার পর ধাপে ধাপে দেশের অন্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও এই প্রক্রিয়া চালু হয়। খসড়া ভোটার তালিকা তৈরির সময় ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও জনপরিসরে বিতর্ক তৈরি করেছে।

তবে বিতর্কের পাশাপাশি কমিশনের অন্দরেও কয়েকটি বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া বা ফের তালিকায় যুক্ত করা, নির্বাচনী তথ্যের নিরাপত্তা এবং ভোটার তালিকার সফটওয়্যারে কারা পরিবর্তন করতে পারবেন—এসব বিষয়েই দুই কমিশনার আপত্তি জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

নতুন ভোটার হওয়ার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম-৬ নিয়েও আপত্তি ওঠে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফর্মটিতে SIR-এর আগের তালিকায় আবেদনকারীর নিজের অথবা বাবা-মা বা ঠাকুর্দা-ঠাকুমার নাম ছিল কি না, সেই তথ্য জানতে চাওয়া শুরু হয়। সান্ধু ও যোশীর বক্তব্য ছিল, নিয়ম পরিবর্তন না করে এভাবে ফর্মে নতুন প্রশ্ন যোগ করা ঠিক নয়। পরে সান্ধু এই পরিবর্তনকে অনুমোদনহীন বলে উল্লেখ করেন।

ভোটার তালিকার তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও দুই কমিশনার উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের আশঙ্কা, রাজ্য ও স্থানীয় স্তরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বদলে দিল্লিকেন্দ্রিক ভাবে ভোটার তথ্য নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। ভোটার তালিকায় পরিবর্তন করার ক্ষমতা কেবল আইন অনুযায়ী নির্ধারিত আধিকারিকদের হাতেই থাকা উচিত বলে তাঁরা মত দেন।

পশ্চিমবঙ্গের SIR নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনের পক্ষ থেকে যে আপিলগুলি করা হয়েছিল, সেগুলির অনুমোদন কে দিয়েছিল, তা জানতে চেয়ে সান্ধু প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি, যোশী এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে যথেষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

গোয়াতেও সফটওয়্যার সংক্রান্ত সমস্যার অভিযোগ সামনে এসেছে। সেখানে ৯৭ জন ভোটারকে নথি যাচাইয়ের পর যোগ্য বলে মেনে নেওয়া হলেও সফটওয়্যারে তাঁদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা সময়মতো চালু করা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সমান মর্যাদার সদস্য। ২০২৩ সালের আইনে কমিশনের সিদ্ধান্ত সাধারণ ভাবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মতভেদ হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। এই আইনি কাঠামোর কথাই নিজেদের আপত্তিতে দুই কমিশনার তুলে ধরেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রশ্ন পাঠানো হলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিশনের তরফে কোনও জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে SIR-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Hot this week

পাঁচ বছরে IIT-তে ৫৩ পড়ুয়ার মৃত্যু, মৃতদের মধ্যে ৫৪ শতাংশের বেশি এসসি, এসটি ও ওবিসি

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইআইটিগুলিতে পড়ুয়াদের মৃত্যুর পরিসংখ্যান...

যমজ সন্তান হলেই কমিশনের নোটিস! দিল্লিতে SIR-এর নিয়মে বিপাকে ২ লক্ষের বেশি ভোটার

দিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া বা SIR-কে ঘিরে...

বরাহনগরে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ,গুমটি বসানোর নামে চাওয়া হলো ৫০ হাজার টাকা

বরাহনগরে স্থানীয় বিজেপি নেতাদের ঘিরে পরপর অভিযোগ ওঠায় রাজনৈতিক...

Topics

পাঁচ বছরে IIT-তে ৫৩ পড়ুয়ার মৃত্যু, মৃতদের মধ্যে ৫৪ শতাংশের বেশি এসসি, এসটি ও ওবিসি

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইআইটিগুলিতে পড়ুয়াদের মৃত্যুর পরিসংখ্যান...

যমজ সন্তান হলেই কমিশনের নোটিস! দিল্লিতে SIR-এর নিয়মে বিপাকে ২ লক্ষের বেশি ভোটার

দিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া বা SIR-কে ঘিরে...

Related Articles

Popular Categories