উত্তর-পূর্ব ভারতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার মার্কিন নাগরিক ম্যাথু অ্যারন ভ্যানডাইককে দেশে ফেরার অনুমতি দিল দিল্লির আদালত। ২৫ সেপ্টেম্বরের আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ভ্যানডাইক এবং মামলায় ধৃত ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে এক মাসের জন্য নিজেদের দেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের পাসপোর্টও ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্চে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ ভ্যানডাইককে গ্রেফতার করেছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি মায়ানমারে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে অস্ত্র এবং ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি ছিল, এই গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাধ্যমে মায়ানমারে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও অভিযুক্তদের ভূমিকা ছিল।
মামলার প্রথম দিকে ইউএপিএ-র অধীনে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত চলছিল। কিন্তু ৮ সেপ্টেম্বর এনআইএ যে চার্জশিট জমা দেয়, তাতে ভ্যানডাইক ও ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে মূলত Immigration and Foreigners Act, 2025-এর ধারাগুলি রাখা হয়। ইউএপিএ-র অধীনে তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ হয়নি বলে জানায় তদন্তকারী সংস্থা। প্রয়োজনে পরবর্তী চার্জশিটে আরও ধারা যুক্ত হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই ১৮ সেপ্টেম্বর ভ্যানডাইককে ডিফল্ট জামিন দেয় রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট। আদালত জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়ায় তাঁর ডিফল্ট জামিনের আইনি অধিকার তৈরি হয়েছে। আদালতের মতে, শুধুমাত্র অসম্পূর্ণ চার্জশিট জমা দিয়ে সেই অধিকার খর্ব করা যায় না।
প্রথমে আদালত তাঁকে দিল্লির বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল এবং তদন্তে প্রয়োজনমতো সহযোগিতা করতে বলেছিল। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর পৃথক নির্দেশে তাঁকে আমেরিকায় যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এক মাসের জন্য দেশে থাকার পর তদন্তের প্রয়োজনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এনআইএ-কে সহযোগিতা করার শর্তও রাখা হয়েছে।
ভ্যানডাইককে ঘিরে ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ তৈরির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। তবে বর্তমান চার্জশিটে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ইউএপিএ-র ধারা প্রয়োগ করা হয়নি। এনআইএ জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত দিকটি নিয়ে তাদের তদন্ত এখনও চলছে। ফলে এই অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এদিকে ভ্যানডাইককে দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক প্রশ্নও উঠেছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ ও পবন খেরা এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার বা এনআইএর তরফে আদালতের সিদ্ধান্তকে কোনও রাজনৈতিক চাপের ফল হিসেবে স্বীকার করা হয়নি। অর্থাৎ, ভ্যানডাইক আপাতত আমেরিকায় যাওয়ার অনুমতি পেলেও তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়নি। ইউএপিএ-সংক্রান্ত তদন্ত খোলা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত চার্জশিট বা নতুন অভিযোগ আনা হতে পারে।


