মায়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে ড্রোন যুদ্ধ ও অন্যান্য সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার মার্কিন নাগরিক ম্যাথু অ্যারন ভ্যানডাইক-সহ সাত বিদেশিকে এক মাসের জন্য নিজেদের দেশে ফেরার অনুমতি দিয়েছে দিল্লির বিশেষ এনআইএ আদালত। ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁরা তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পান। ভ্যানডাইক আমেরিকায় এবং ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিক ইউক্রিয়ায় যাওয়ার অনুমতি পেয়েছেন।
চলতি বছরের মার্চে ভ্যানডাইক ও ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে এনআইএ গ্রেফতার করে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ ছিল, তাঁরা মিজোরাম হয়ে মায়ানমারে গিয়ে মায়ানমার-ভিত্তিক জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির জন্য ড্রোন পরিচালনা, ড্রোন যুদ্ধ, অ্যাসেম্বলি এবং জ্যামিং প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন।
তবে মামলায় নতুন মোড় আসে ৮ সেপ্টেম্বর। এনআইএ যে চার্জশিট জমা দেয়, সেখানে সাত বিদেশির বিরুদ্ধে Immigration and Foreigners Act, 2025-এর নির্দিষ্ট ধারা প্রয়োগ করা হলেও ইউএপিএ-র ধারা রাখা হয়নি। এনআইএ আদালতকে জানায়, ইউএপিএ-সংক্রান্ত তদন্ত এখনও চলবে এবং সেই অংশে আরও তদন্ত বাকি রয়েছে।
এর পরেই ১৮ সেপ্টেম্বর ভ্যানডাইককে ডিফল্ট জামিন দেয় আদালত। বিচারকের পর্যবেক্ষণ ছিল, তদন্তের ১৮০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও ইউএপিএ-সংক্রান্ত তদন্ত অসম্পূর্ণ থাকায় শুধুমাত্র আংশিক চার্জশিটের ভিত্তিতে তাঁর আইনগত জামিনের অধিকার খর্ব করা যায় না।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেছেন, মার্কিন চাপের ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এনআইএ কেন ইউএপিএ-র ধারা বাদ দিল এবং কী ভাবে এই বিদেশিরা ভারতে ঢুকে মায়ানমারে যাতায়াত করলেন—তার ব্যাখ্যা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া উচিত।
কংগ্রেস নেতা পবন খেরাও ভ্যানডাইককে আমেরিকা যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ভ্যানডাইককে এমনভাবে দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে যেন তিনি কোনও অতিথি। মার্কিন চাপের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন তিনি। তবে এগুলি কংগ্রেস নেতাদের রাজনৈতিক অভিযোগ; মার্কিন চাপের কারণে আদালতের সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন কোনও আদালত-স্বীকৃত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
কংগ্রেস নেতা সরল প্যাটেল ভ্যানডাইকের ঘটনাকে ১৯৯৯ সালের মাসুদ আজহার মুক্তির ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তৎকালীন বাজপেয়ী সরকার কান্দাহার বিমান অপহরণের পর মাসুদ আজহার-সহ তিন বন্দিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল। সেই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনেই তিনি ‘মাসুদ আজহার মোমেন্ট’ মন্তব্য করেছেন।
তবে দু’টি ঘটনার আইনি ও প্রেক্ষিতগত পরিস্থিতি এক নয়। বর্তমান মামলায় ভ্যানডাইককে আদালত ডিফল্ট জামিন দিয়েছে এবং পরে নির্দিষ্ট শর্তে এক মাসের জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এনআইএ-র ইউএপিএ তদন্তও আনুষ্ঠানিক ভাবে বন্ধ হয়নি।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সাত বিদেশিকেই তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তদন্তকারীদের সামনে হাজির হতে হবে। ফলে ভ্যানডাইক ও তাঁর সঙ্গীরা আপাতত বিদেশে গেলেও মামলার তদন্ত পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।


