দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় পর পর ধর্ষণ ও গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে যখন রাজধানীতে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখনই বিষয়টি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির প্রসঙ্গ টেনে ২০১২ সালের নির্ভয়াকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করেছে শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ এই ঘটনাগুলির শুনানিতে পর্যবেক্ষণ করে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির সঙ্গে নির্ভয়াকাণ্ডের সময়কার যন্ত্রণার তুলনা না করে থাকা কঠিন। আদালতের মতে, এই ধরনের ঘটনা রাজধানীর জননিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সামনে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দেয়।
শীর্ষ আদালতের মন্তব্য, “রাজধানী দিল্লির এই ঘটনাগুলি স্পষ্ট ভাবে দেখিয়ে দেয় যে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশ এবং প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে।” একই সঙ্গে পর্যাপ্ত আলো, নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পরিকাঠামোর অভাবের বিষয়টিও তুলে ধরে আদালত। পার্ক কিংবা বাসের মতো জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গাগুলিকে কোনও ভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রাখা যায় না বলেও পর্যবেক্ষণ করেছে বেঞ্চ।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির মধ্যে গত মাসের শেষের দিকে দিল্লিতে একটি স্লিপার বাসে এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরীর বাসিন্দা ওই কিশোরী নয়ডার সেক্টর ৬৩-এর দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় বাসচালক এবং কন্ডাক্টর তাকে ধর্ষণ করে দিল্লির কাশ্মীরি গেট এলাকায় রাস্তায় ফেলে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এর পর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি দিল্লির স্বরূপনগরে রাস্তার ধারে এক কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে তাকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে আসে।
এর মধ্যেই গত সপ্তাহে দিল্লির কালকাজি মন্দিরের কাছে একটি পার্কে এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, অভিযুক্তেরা নিজেদের পুলিশকর্মী পরিচয় দিয়ে কিশোরীকে ভয় দেখিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন অতীতে পুলিশের চর হিসেবেও কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে।
এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে রাজধানীতে পর পর এমন একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই ঘটনাগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট।


