পুজোয় ‘বামবধ’-এর ডাক। কামারডাঙা দুর্গোৎসব কমিটির ব্যানার ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। পুজো কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, এ বার দুর্গাপুজোয় সিপিএম, ডিওয়াইএফআই, এসইউসিআই-সহ কোনও বামপন্থী সংগঠনকে বুকস্টল করতে দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যেই এই মর্মে একটি ব্যানারও প্রকাশ্যে এসেছে।
কামারডাঙা দুর্গোৎসব কমিটির এ বারের পুজোর থিম ‘সনাতন হিন্দু রাষ্ট্র’। এ বছর ১০৭ বছরে পা দিচ্ছে এই পুজো। পুজোর প্রস্তুতির পাশাপাশি বামপন্থী সংগঠনগুলির স্টল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ঘিরেও তৈরি হয়েছে চর্চা।
পুজো কমিটির প্রকাশিত ব্যানারে লেখা হয়েছে, ‘CPIM/DYFI/SUCI সহ সকল বামপন্থী সংগঠন দ্বারা নির্মিত স্টল বসতে দেওয়া হবে না।’ ব্যানারে ‘বামবধ’-এর ডাকও দেওয়া হয়েছে।
পুজো উদ্যোক্তা সুরজ কুমার সিং বলেন, “বামপন্থীদের কোনও স্টল আমরা পুজোয় লাগাতে দেব না। ওরা ধর্মবিশ্বাস রাখে না। আর আমরা ওদের উপর বিশ্বাস রাখি না। মানুষও ওদের উপর কোনও বিশ্বাস রাখে না। যেখানে ধর্ম, সেখানে বামপন্থীরা থাকতে পারে না। আর আমরা তো ধর্মীয় অনুষ্ঠান করছি। দুর্গাপুজো ধর্মীয় অনুষ্ঠান।”
তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীও বলে দিয়েছেন, এটা শারদোৎসব নয়, দুর্গাপুজো। তাই আমাদের পুজোয় হিন্দুদের আহ্বান জানাচ্ছি।”
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। বিষয়টি শুনে তিনি বলেন, “আমি কোনও প্রতিক্রিয়া দেব না। কেউ একটা প্রচার পাওয়ার জন্য এই ধরনের কথা বলছেন। ওখানে দুর্গোৎসব কমিটি কী হয়, কে করে, কেউ জানে কি না জানি না। তবে আমি অন্তত জানি না। ওইখানে পুজোয় স্টল হয় কি না, আমি সেটাও জানি না।”
সুজনের আরও বক্তব্য, “শুধুমাত্র প্রচারের জন্য এই সব করছে। যাতে সরকারের কাছ থেকে বেশি টাকা পাওয়া যায়।”
কামারডাঙা দুর্গোৎসব কমিটির এই সিদ্ধান্তের জেরে পুজোর আবহে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। একদিকে ‘সনাতন হিন্দু রাষ্ট্র’ থিম, অন্যদিকে বামপন্থী সংগঠনগুলির স্টল নিষিদ্ধ করার ঘোষণা—দুই বিষয় নিয়েই এ বার নজর থাকবে পুজো উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক মহলের।

