কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউটের (SRFTI) ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়ে একটি সংগঠনের অনুষ্ঠান চলাকালীন পড়ুয়াদের সঙ্গে আয়োজকদের বচসা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায় বলে অভিযোগ। ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দু’পক্ষের তরফেই দাবি করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত পশ্চিমবঙ্গ প্রান্ত’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু এবং ক্যাম্পাসের ভিতরে ওই ধরনের কর্মসূচি কেন করা হচ্ছে, তা নিয়ে কয়েকজন পড়ুয়া প্রশ্ন তোলেন বলে জানা যায়। এরপর আয়োজকদের সঙ্গে তাঁদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পড়ুয়াদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে কথা বলার সময় আয়োজকদের কয়েকজন তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তাঁদের কয়েকজনকে ধাক্কা ও মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। একাধিক পড়ুয়ার দাবি, তাঁদের ‘দেশবিরোধী’, ‘নকশাল’ এবং ‘জঙ্গি’ বলে কটূক্তি করা হয়। কয়েকজন ছাত্রীও তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। শিক্ষকদের কয়েকজনও এই ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে পড়ুয়াদের দাবি।
অন্য দিকে, আয়োজকদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের বক্তব্য, নিয়ম মেনেই টাকা দিয়ে অডিটোরিয়াম ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠান চলছিল। সেই সময় একদল পড়ুয়া সেখানে এসে বাধা দেন এবং পরে তাঁদের উপর হামলা চালানো হয় বলে সংগঠনের সদস্যদের দাবি। তাঁদের আরও অভিযোগ, অনুষ্ঠানস্থলের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।
সংগঠনের এক সদস্যের দাবি, ঘটনায় তাঁদের কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং চারজনকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে হয়েছে। ক্যাম্পাসে স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ভাঙচুরের অভিযোগও তিনি করেছেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন ভাবে কোনও নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ শুরু হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো জায়গায় বাইরের সংগঠনের অনুষ্ঠান আয়োজন এবং তার জেরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা হামলায় জড়িত ছিলেন, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।


