ক্যানসারের ওষুধের খুচরো দামে বিপুল ফারাক নিয়ে মঙ্গলবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। একটি ওষুধের ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারক সংস্থা যে দামে তা দোকানে সরবরাহ করছে, তার তুলনায় বাজারে রোগীদের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরো দাম অনেক বেশি হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। এই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের কাছে বিস্তারিত জবাব চেয়েছে বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ।
মামলার শুনানিতে উঠে আসে, একটি ক্যানসারের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা খুচরো বিক্রেতাদের কাছে ওষুধটি প্রায় ২৭০০ টাকায় দিচ্ছে। অথচ সেই একই ওষুধের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরো দাম লেখা রয়েছে ২৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ সরবরাহমূল্যের তুলনায় রোগীর জন্য নির্ধারিত দাম প্রায় দশ গুণ বেশি।
এই বিপুল ব্যবধানের কারণ জানতে চেয়ে বিচারপতি সন্দীপ মেহতা প্রশ্ন করেন, এত বেশি টাকা অতিরিক্ত হিসেবে কোথায় যাচ্ছে এবং এর সুবিধা কারা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ওষুধের দামে এত বড় পার্থক্য নজর এড়িয়ে যেতে পারে না। বিচারপতি বিক্রম নাথও বিষয়টির সমাধানে এতদিন কোনও নির্দিষ্ট ও অভিন্ন ব্যবস্থা না থাকার কারণ জানতে চান।
২০১৩ সালের ড্রাগস প্রাইসেস কন্ট্রোল অর্ডার বা ডিপিসিও অনুযায়ী ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ, জেনেরিক ওষুধ লেখার নিয়ম এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের মূল্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একাধিক আবেদনের শুনানি করছে এই বেঞ্চ। সেই মামলারই অংশ হিসেবে ক্যানসারের ওষুধের দামের বিষয়টি সামনে এসেছে।
শুনানিতে কর্পোরেট হাসপাতালের নিজস্ব ফার্মেসি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কিছু ক্ষেত্রে রোগীদের হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত ফার্মেসি থেকেই ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হতে পারে। সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসার খরচ মেটানো হলে ওষুধের এই অতিরিক্ত দাম শেষ পর্যন্ত সরকারি অর্থের উপরও চাপ তৈরি করতে পারে।
কোন কোন হাসপাতাল রোগীদের নিজেদের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করছে, তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, সব ধরনের ওষুধের ক্ষেত্রে লাভের সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায় কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন বিচারপতি মেহতা।
কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার বলে তিনি একমত। সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী শুনানিতে কেন্দ্রের অবস্থান জানানো হবে বলে আদালতকে জানান তিনি।


