উপনির্বাচনের আগে অসমের নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রের ডলংঘাটে বিজেপির নির্বাচনী সভাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দলের প্রার্থী দেবাশিস শর্মার সমর্থনে আয়োজিত ওই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বিজেপি বিধায়ক রমাকান্ত দেওরি। সভা শেষ হওয়ার আগে কেউ মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গেলে তাঁর ‘অরুণোদয়’ প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য সামনে আসার পরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
বুধবার ডলংঘাটে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, অসম বিজেপির সভাপতি দিলীপ শইকিয়া এবং বিধায়ক রমাকান্ত দেওরি। সভাটি দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের অনেকেই তার আগে থেকেই সেখানে পৌঁছে যান। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকেই সভাস্থলে মানুষের ভিড় দেখা যায়।
তবে নেতারা সভাস্থলে পৌঁছনোর সময় বেশ কিছু মানুষ সেখান থেকে চলে যেতে শুরু করেন বলে জানা যায়। প্রায় সাড়ে ৩টে নাগাদ সোনোয়াল, শইকিয়া এবং দেওরি সভাস্থলে পৌঁছন। তাঁদের দেখার পর অনেকে মাঠ ছাড়তে শুরু করলে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে তাঁদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন দেওরি।
সেই সময়ই তিনি সভা থেকে চলে যাওয়া মানুষদের উদ্দেশে ‘অরুণোদয়’ প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের ধরন নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ‘অরুণোদয়’ অসম সরকারের একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, যার আওতায় যোগ্য মহিলাদের পরিবারের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
বিধায়কের বক্তব্য শুধু সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধের হুঁশিয়ারিতেই থেমে থাকেনি। সভা ছেড়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সন্তানদের নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। এমনকি তাঁদের উদ্দেশে অভিশাপের প্রসঙ্গ টেনে ঈশ্বর ও আল্লাহর নামও উল্লেখ করেন তিনি।
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সভায় উপস্থিত থাকা বা সভা না ছাড়ার বিষয়কে যুক্ত করা যায় কি না, তা নিয়েই মূলত প্রশ্ন উঠছে।
‘অরুণোদয়’ প্রকল্পের মাধ্যমে বহু পরিবার নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে। ফলে একজন জনপ্রতিনিধির এমন মন্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে কী বার্তা দিচ্ছে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। উপনির্বাচনের আগে বিজেপির সভায় এই মন্তব্যকে ঘিরে অসমের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে।


