রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই নতুন কর্মসূচির কথা জানালেন নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, উপনির্বাচন শেষ হওয়ার পর তিনি দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলবেন। রাজ্য বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে বিষয়গুলি কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
হুমায়ুনের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারে তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের নানা ভাবে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। কয়েকজন দলীয় কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। এই ঘটনাগুলি নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্য মানবাধিকার কমিশনেরও দ্বারস্থ হয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্য, অভিযোগ জানানোর পরেও পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি।
রেজিনগর উপনির্বাচনে বিজেপি প্রশাসন ও পুলিশের ক্ষমতা অন্যায় ভাবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, ভোটের আগে তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখানো এবং হয়রানি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে চান তিনি।
শুক্রবার হুমায়ুন বলেন, বিজেপি দেশের একাধিক রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গেও তাদের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, একটি বিধানসভা উপনির্বাচনে জয় পাওয়ার জন্য প্রশাসনকে ব্যবহার করার অভিযোগ কেন উঠছে। দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছ থেকেই এর জবাব চাইবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে রেজিনগরের ভোটের ফল তাঁর দিল্লি যাওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন হুমায়ুন। তাঁর কথায়, ভোটে জয় বা পরাজয় যাই হোক, তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করবেন। একই সঙ্গে বিজেপির সঙ্গে কোনও সমঝোতায় যাওয়ার সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেছেন। নিজের দলের আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেই অভিযোগের প্রতিবাদ করবেন বলে জানিয়েছেন।
অন্য দিকে, তামিলনাড়ুর অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজ়াগম বা টিভিকের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন হুমায়ুন। পশ্চিমবঙ্গে টিভিকের নামে সংগঠন তৈরির চেষ্টা শুরু হলেও, সেই উদ্যোগের সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমোদন নেই বলে টিভিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
হুমায়ুন জানিয়েছেন, তামিলনাড়ুর ওই দলের সঙ্গে ভবিষ্যতে সমন্বয় তৈরি করতে চান তিনি। বিজয়ের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, নতুন রাজনৈতিক শক্তিকে সামনে রেখে বিজেপির নীতি এবং সংখ্যালঘুদের নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভাবে সরব হতে চান তিনি।

