উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটিতে একটি পথসভাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার উত্তেজনা ছড়ায়। এসএফআই-এর বিরাটি-বিশরপাড়া পূর্ব আঞ্চলিক কমিটির আসন্ন সম্মেলন উপলক্ষে বণিক মোড়ে ওই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভায় হামলা ও মঞ্চ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপি-সমর্থিত কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনায় বেশ কয়েকজন ছাত্র ও যুব নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে আয়োজকদের দাবি।আয়োজকদের অভিযোগ, সকাল থেকেই সভা বন্ধ করার জন্য কয়েকজন সেখানে এসে মাইক খুলে দেন এবং হুমকি দিতে থাকেন। পরে সভা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।এরপর ব্যাটারি চালিত মাইক ব্যবহার করে ফের সভা শুরু করা হয়। অভিযোগ, কিছুক্ষণ পর আবার একদল লোক সেখানে এসে হামলা চালায়। সভার মঞ্চে উঠে ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনায় সিপিএম-এর উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সদস্য শিবশঙ্কর ঘোষ গুরুতরভাবে আহত হন। তাঁর মাথায় আঘাত লাগে এবং রক্তপাত শুরু হয়।এসএফআই-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঘটনায় সংগঠনের প্রায় ১২ জন নেতা ও কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শিবশঙ্কর ঘোষ-সহ আটজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। উত্তর দমদম পৌর হাসপাতালে চিকিৎসার পর শিবশঙ্কর ঘোষের মাথায় পাঁচটি সেলাই করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার পর পুলিশ এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই-এর কয়েকজন নেতা-নেত্রীকেও আটক করে বলে অভিযোগ। এসএফআই নেতা আকাশ কর এবং ডিওয়াইএফআই নেত্রী অঙ্কিতা দত্ত চৌধুরীকে থানায় ডেকে নিয়ে আটক করা হয়েছে বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে।২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে মহাত্মা গান্ধীর ছবি রাখা হয়েছিল। আয়োজকদের অভিযোগ, হামলার সময় ছবিটিও ছিঁড়ে ফেলা হয়। সভায় উপস্থিত ছাত্র ও যুব সংগঠনের সদস্যরা ভোটাধিকার এবং সংবিধান রক্ষার দাবিতে কর্মসূচি পালন করছিলেন।হামলার পরেও সভা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মঞ্চ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখানেই বক্তব্য রাখেন আয়োজকরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরাটি এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ঘটনার নিন্দা করেছেন বলে আয়োজকদের দাবি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিরাটিতে SFI-এর পথসভায় বিজেপির হামলা! আহত একাধিক ছাত্র-যুব নেতা, ভাঙচুরের পরও একই জায়গায় চলল সভা
Popular Categories


