Friday, October 9, 2026
24 C
Kolkata

আজানে বাধা নয়, শব্দদূষণের নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক’, মসজিদ নিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ

উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের আয়েশা মসজিদে দিনে পাঁচবার আজান দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে অযথা হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। তবে আজানের সময় মাইক বা অন্য কোনও শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহার করতে হলে শব্দদূষণ সংক্রান্ত আইন এবং আদালতের আগের নির্দেশ মেনে চলতে হবে বলে স্পষ্ট করেছে আদালত।শানওয়াজ খান-সহ ছয়জনের করা একটি আবেদনের শুনানিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। আবেদনকারীদের অভিযোগ ছিল, আগের আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মসজিদে আজানের জন্য মাইক ব্যবহারে প্রশাসন বাধা দিচ্ছে।অন্যদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, আজান দিতে কাউকে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। প্রশাসনের আপত্তি শুধুমাত্র মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে। শব্দের মাত্রা এবং ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময় নিয়ে আইনে যে নিয়ম রয়েছে, তা মেনেই মাইক ব্যবহার করতে হবে।বিচারপতি অজিত কুমার এবং বিচারপতি গরিমা প্রসাদের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির শুনানি করে। শুনানির সময় রাজ্য সরকার ২০০০ সালের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়ম এবং ২০২০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের কথা তুলে ধরে।২০২০ সালের ওই মামলায় আদালত জানিয়েছিল, ইসলামে আজান একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় রীতি হলেও মাইক বা অন্য কোনও শব্দবর্ধক যন্ত্রের মাধ্যমে আজান দেওয়া ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়। তাই মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের আইন এবং জনস্বাস্থ্যসহ সাংবিধানিক বিষয়গুলি মানতে হবে।আগের রায়ে আরও বলা হয়েছিল, রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া মাইক ব্যবহার করাও বেআইনি। তবে মসজিদের মিনার থেকে মাইকের সাহায্য ছাড়া স্বাভাবিক কণ্ঠে মুয়াজ্জিন আজান দিতে পারবেন বলে আদালত স্পষ্ট করেছিল।বর্তমান মামলায় আবেদনকারীরা আদালতকে জানান, তাঁরা শব্দদূষণ সংক্রান্ত সব নিয়ম মেনে চলবেন। আদালত তাঁদের ২০০০ সালের নিয়ম এবং ২০২০ সালের রায়ে দেওয়া নির্দেশগুলি মানার লিখিত অঙ্গীকারনামা জমা দিতে বলেছে।আদালত জানিয়েছে, আবেদনকারীরা প্রয়োজনীয় আবেদন ও নোটারি করা হলফনামা জমা দেওয়ার পর পুলিশ বা জেলা প্রশাসন তাঁদের দিনে পাঁচবার আজান দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দিতে পারবে না। তবে মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শব্দসীমা ও অন্যান্য আইন মানা বাধ্যতামূলক।একই সঙ্গে আদালত সতর্ক করে দিয়েছে, ভবিষ্যতে শব্দদূষণ সংক্রান্ত নিয়ম বা দেওয়া অঙ্গীকার ভঙ্গ হলে প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে।অর্থাৎ, এই রায়ে আজানের জন্য মাইক ব্যবহারের কোনও অবাধ অনুমতি দেওয়া হয়নি। আদালত ধর্মীয় প্রথা পালনের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের আইন মেনে চলার বিষয়টিও স্পষ্ট করেছে।

Hot this week

বিনিয়োগ বাড়াতে স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ছে সরকার: দাবি বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে জাপানের টয়োটা তুশো...

ব্যাঙ্কশাল কোর্টে আইনজীবীদের উপর হামলার অভিযোগ, গ্রেফতার বিজেপি নেতা কুশল পাণ্ডে!

ব্যাঙ্কশাল আদালত চত্বরে আইনজীবীদের একাংশের উপর হামলার অভিযোগে বিজেপি...

মালদহে ফের পালাবদল, তৃণমূলের ১১ ‘নির্দল’ কাউন্সিলরের সমর্থনে ইংরেজবাজার পুরসভা বিজেপির দখলে

মালদহে পরপর দু’দিনে জেলা পরিষদ এবং ইংরেজবাজার পুরসভায় ক্ষমতার...

Topics

বিনিয়োগ বাড়াতে স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ছে সরকার: দাবি বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে জাপানের টয়োটা তুশো...

ব্যাঙ্কশাল কোর্টে আইনজীবীদের উপর হামলার অভিযোগ, গ্রেফতার বিজেপি নেতা কুশল পাণ্ডে!

ব্যাঙ্কশাল আদালত চত্বরে আইনজীবীদের একাংশের উপর হামলার অভিযোগে বিজেপি...

বেঙ্গালুরুর SIR-বিরোধী কর্মসূচিতে ধ্রুব রাঠী, জনসমাগমের ডাক প্রকাশ রাজের

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে...

জ্ঞানেশ কুমারের ছত্তীসগঢ় সফরও স্থগিত! ‘অনিবার্য কারণ’-এর আড়ালে কি বাড়তে থাকা বিক্ষোভের চাপ?

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক...

Related Articles

Popular Categories