নির্বাচন কমিশনের অনলাইন ব্যবস্থায় নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ‘ইসিআইনেট’ নামের পোর্টারে ত্রুটির সুযোগ নিয়ে ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহ এবং তাতে পরিবর্তন করার সুযোগ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টি সামনে আসার পর বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতর থেকেই এই ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার কাজ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি।
‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে কংগ্রেস এই অভিযোগ সামনে এনেছে। প্রতিবেদনে সাইবার নিরাপত্তা গবেষক নিসর্গ অধিকারীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের অনলাইন পোর্টাল এবং ভোটার পরিষেবা সংক্রান্ত ব্যবস্থায় এমন কিছু ত্রুটি ছিল, যার ফলে অনুমতি ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখা বা সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে।
নিসর্গের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনী আধিকারিকদের নাম ও ফোন নম্বরের মতো তথ্যও এই ত্রুটির কারণে ঝুঁকির মধ্যে ছিল। কিছু ক্ষেত্রে লগ-ইন বা ক্যাপচা পরীক্ষার মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকার অভিযোগও উঠেছে। তাঁর দাবি, এই সমস্যাগুলির কথা তিনি চলতি বছরের জুলাই মাসেই নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে দেশের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘সার্ট-ইন’-কেও ইমেল করে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন।
নিসর্গের দাবি, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও সব সমস্যার সমাধান হয়নি। সম্প্রতি সার্ট-ইন তাঁকে ইমেল করে জানায়, একটি ত্রুটি ঠিক করা হয়েছে এবং বাকি সমস্যাগুলি নিয়ে কাজ চলছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর নির্বাচন কমিশনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এবং তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
এর আগে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনেও ইসিআইনেটের মাধ্যমে ভোটার তালিকা পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। সেখানে স্থানীয় নির্বাচনী আধিকারিকদের ক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। আইন অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার দায়িত্ব মূলত সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচনী আধিকারিকদের হাতে থাকার কথা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও বাড়িয়েছে কংগ্রেস। দলের নেতা জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেছেন, পোর্টারের ত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে ভোটার তালিকায় পরিবর্তন করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। রাহুল গান্ধীও এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেছেন।
অন্যদিকে, ভোটারদের তথ্যের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগগুলির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির সমাধানই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।


