Saturday, October 31, 2026
30 C
Kolkata

জঙ্গিগোষ্ঠী উলফার প্রশংসা করে বিতর্কে অসমের মন্ত্রী, তাঁর মন্তব্যের সাফাই দিতে এগিয়ে এলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা!

অসমে নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী উলফার প্রশংসা করে বিতর্কে জড়ালেন রাজ্যের মন্ত্রী বিশ্বজিৎ দইমারি। তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত মুখ খুলতে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে। মন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, নিষিদ্ধ উলফা (ইন্ডিপেন্ডেন্ট)-এর কথা বলতে চাননি দইমারি। বরং সরকারের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে অংশ নেওয়া উলফার অন্য একটি গোষ্ঠীর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন তিনি।ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার। তিনসুকিয়ার কাকোপাথারে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশ্বজিৎ দইমারি বলেন, গত ৫০ বছরে অসমের উপর কেউ আঘাত হানতে পারেনি উলফার জন্যই। তাঁর দাবি, এই সংগঠন তৈরির পিছনে মোরান ও মাতক সম্প্রদায়ের বড় ভূমিকা ছিল। উলফার প্রথম সারির নেতাদের অধিকাংশই এই দুই সম্প্রদায় থেকে উঠে এসেছিলেন। এমনকি সংগঠনের নেতা পরেশ বড়ুয়ারও মাতক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।মন্ত্রী আরও বলেন, গত পাঁচ দশকে মোরান ও মাতক সম্প্রদায়ের মানুষ যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা না হলে অসমের পরিস্থিতি আজ অন্য রকম হতে পারত। তাঁর এই বক্তব্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কারণ, উলফা একটি নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন। ফলে রাজ্যের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর মুখে এমন মন্তব্য কেন, তা নিয়ে আপত্তি ওঠে বিভিন্ন মহলে।বিতর্ক বাড়তে থাকায় বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি জানান, দইমারি তাঁকে জানিয়েছেন, তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে পরেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন উলফা (ইন্ডিপেন্ডেন্ট)-এর কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি আসলে অনুপ চেতিয়ার নেতৃত্বাধীন উলফার সেই অংশের কথা বলেছিলেন, যারা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছে।তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই ব্যাখ্যার পরেও বিতর্ক থামেনি। অসম প্রদেশ মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী মীরা বরঠাকুর গোস্বামী ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখেছেন। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের প্রশংসা করার কারণ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি মন্ত্রীর মন্তব্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবিও উঠেছে।উল্লেখ্য, শান্তি আলোচনা নিয়ে মতবিরোধের জেরে উলফা পরে দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। অনুপ চেতিয়ার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী সরকারের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দিয়ে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করে। অন্যদিকে, পরেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন উলফা (ইন্ডিপেন্ডেন্ট) সেই প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকে। এই গোষ্ঠী এখনও নিষিদ্ধ সংগঠনের তালিকায় রয়েছে। ফলে মন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

Hot this week

বিজয়া সম্মেলনীর পরেই টিটাগড়ে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, গুরুতর জখম দলের আইটি শাখার দায়িত্বে থাকা কর্মী!

উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড়ে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা...

Topics

আইডিবিআই ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে রাহুল গান্ধী, আন্দোলনকারী কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা

আইডিবিআই ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব...

Related Articles

Popular Categories