বারাকপুরে দুই প্রাক্তন তৃণমূল নেতাকে বিজেপিতে নেওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে গেরুয়া শিবিরের অন্দরের বিবাদ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। বারাকপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম দাস এবং টিটাগড় পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রশান্ত চৌধুরীকে দলে নেওয়ার বিরোধিতা করেছেন বারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। এবার তাঁর অবস্থানকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানালেন জগদ্দল ও নৈহাটির দুই বিজেপি বিধায়ক রাজেশ কুমার এবং সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে, কৌস্তভের বিরোধিতার পালটা হিসেবে রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারাকপুরের বিজেপিতে দুই শিবিরের মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত গত সপ্তাহে। একটি অনুষ্ঠানে অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যায় বারাকপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম দাসকে। এরপরই উত্তম এবং টিটাগড়ের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রশান্ত চৌধুরীর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এই দু’জনকে দলে নেওয়া হলে রাজ্য বিজেপির দফতরের সামনে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি দেন কৌস্তভ বাগচী। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে দলের মধ্যেই শুরু হয় চাপানউতোর।
এর পরদিনই বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ উত্তম দাসের বাড়িতে গিয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান। অন্যদিকে, কৌস্তভের বিরুদ্ধে প্রচারে নামে দলের আরেকটি অংশ। তৃণমূল ও সিপিএম নেতাদের সঙ্গে তাঁর পুরনো ছবি সামনে এনে প্রশ্ন তোলা হয়। এমনকি বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও কৌস্তভের বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন।
তবে এবার কৌস্তভের পাশে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন জগদ্দলের বিধায়ক রাজেশ কুমার। তাঁর বক্তব্য, বারাকপুরের বিধায়ক যা বলেছেন, তা তাঁর নিজের মনের কথা। কৌস্তভের অবস্থানকে তিনি সমর্থন করেন। পাশাপাশি, অন্য বিধায়কের এলাকায় অন্য নেতাদের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়েরও দাবি, কৌস্তভ নিশ্চয়ই তথ্যপ্রমাণ হাতে নিয়েই এমন কথা বলেছেন। তাঁর মতে, কৌস্তভ দলের বিরোধিতা করেননি, বরং কাদের বিজেপিতে নেওয়া উচিত, তা নিয়ে সতর্ক করেছেন।
অন্যদিকে, ফেসবুকে খোলা চিঠি লিখে অর্জুন সিংয়ের সমর্থনে সরব হয়েছেন বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। অর্জুনের রাজনৈতিক অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিরোধিতা করে তিনি অতীতের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করেছেন। তাঁর লেখায় উঠে এসেছে বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও।
সব মিলিয়ে উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে বিজেপিতে নেওয়ার জল্পনা এখন দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে কৌস্তভের পাশে দুই বিধায়কের সমর্থন, অন্যদিকে অর্জুনের হয়ে সুদীপ্তর অবস্থান—বারাকপুরে বিজেপির রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


