পঞ্চায়েত বা পুরসভা নির্বাচনের মতো এবার বহুতল আবাসনের পরিচালন সমিতির ভোট ঘিরেও অশান্তির অভিযোগ উঠল। বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা, বহিরাগতদের হামলা এবং বাইক-বাহিনীর দাপটে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিটি রোডের পাশে সোদপুরের পিয়ারলেস নগর। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে পুলিশের উপস্থিতিতেও স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ আধিকারিককে আবাসন ছেড়ে আদালত চত্বরে বসেই নির্বাচনের পরবর্তী কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
পিয়ারলেস নগরে মোট ১১০টি টাওয়ারে প্রায় ১ হাজার ৮৮০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রতি তিন বছর অন্তর আবাসনের অ্যাপার্টমেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন হয়। এবার ৪৮টি আসনের জন্য ভোট হওয়ার কথা। নির্বাচন পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বিশেষ আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শুভাশিস সেনগুপ্ত।
অভিযোগ, গত ২৩ ও ২৪ অক্টোবর মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর থেকেই আবাসনে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। রাতের দিকে বিজেপির পতাকা লাগানো মোটরবাইকে একদল লোক আবাসনের বিভিন্ন রাস্তায় ঘোরাফেরা করে। বিদায়ী পরিচালন সমিতির সদস্যদের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
২৭ অক্টোবর মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। অভিযোগ, শতাধিক বহিরাগত আবাসনের ভিতরে ঢুকে প্রার্থীদের বাধা দেয় এবং কয়েকজনকে মারধর করে। বিশেষ আধিকারিকের জমা দেওয়া রিপোর্টে শম্ভু কুণ্ডু নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে এই হামলা চালানোর অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ১৩ জন প্রার্থী ইমেল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মনোনয়ন জমা দেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী সেই আবেদন গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তাই নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিশেষ আধিকারিক। আগামী ৩০ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্টের বার লাইব্রেরি ক্লাবে প্রার্থীরা নিজেরা অথবা তাঁদের প্রতিনিধির মাধ্যমে মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন। সেখানেই হবে মনোনয়নপত্র যাচাই এবং প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের কাজ।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শম্ভু কুণ্ডু। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দক্ষিণবঙ্গের ধর্মপ্রচার বিভাগের সহ-প্রমুখ শম্ভুর দাবি, বিশেষ আধিকারিক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন। তাঁর অভিযোগ, বিদায়ী পরিচালন সমিতির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পুরনো ও নতুন সদস্যদের নিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।
অন্যদিকে, আবাসনের সম্পাদক তথা বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী সৌমেন চৌধুরী জানিয়েছেন, বিধায়কের বাড়িতে হওয়া বৈঠকের প্রস্তাবে তাঁরা সম্মতি দেননি। বিধায়কের স্বামী শেখররঞ্জন দেবনাথের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশে নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে বলে এ বিষয়ে তাঁদের কিছু বলার নেই।


