উত্তরপ্রদেশের আগামী বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বিজেপিকে কার্যত বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান। বিজেপির সঙ্গে আসন সমঝোতা না হলে উত্তরপ্রদেশের ৪০৩টি বিধানসভা কেন্দ্রেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে তাঁর দল লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস)-এর। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন চিরাগ। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে এনডিএ-র অন্দরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে।চিরাগ স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজেপির সঙ্গে কেন্দ্র ও বিহারে তাঁদের জোট রয়েছে। উত্তরপ্রদেশেও এনডিএ-র শরিক হিসেবে একসঙ্গে নির্বাচনে লড়তে চান তাঁরা। তবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনও সমঝোতা না হলে নিজেদের শক্তিতেই ভোটের ময়দানে নামবে এলজেপি (রামবিলাস)। তাঁর কথায়, জোটের দরজা খোলা থাকলেও প্রয়োজনে একা লড়াই করার ক্ষমতা তাঁদের রয়েছে।উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে সম্পর্কও ভাল বলে দাবি করেছেন চিরাগ। তবে নিজের দলের নির্বাচনী শক্তির কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। ২০২৩ সালে নাগাল্যান্ড বিধানসভা নির্বাচনে কোনও আসন না পেয়েও নিজেদের উদ্যোগে লড়াই করে দু’টি আসনে জয় পেয়েছিল তাঁর দল। সেই উদাহরণ টেনেই উত্তরপ্রদেশে একা লড়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি।যদিও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে এখনও চিরাগের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের আসন সমঝোতা নিয়ে কোনও স্পষ্ট বার্তা আসেনি। বিহার লাগোয়া উত্তরপ্রদেশের কয়েকটি এলাকায় দলিত ভোটারদের মধ্যে, বিশেষ করে জাটভ ও পাসি সম্প্রদায়ের একাংশের কাছে এলজেপির প্রভাব রয়েছে। সেই ভোটব্যাঙ্ককে ঘিরেই চিরাগের রাজনৈতিক আগ্রহ বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, যোগী সরকারের মন্ত্রী তথা সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির প্রধান ওমপ্রকাশ রাজভর সম্প্রতি দাবি করেছেন, উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে চিরাগের জন্য কোনও জায়গা নেই।বাবা রামবিলাস পাসোয়ানের মৃত্যুর পর বিহারের রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করতে গিয়ে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন চিরাগ। ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নীতীশ কুমারের জেডিইউ-র বিরুদ্ধে প্রার্থী দিলেও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়েননি। ১৩৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র একটি আসনে জয় পেলেও দল পেয়েছিল পাঁচ শতাংশের বেশি ভোট।এর পর ২০২১ সালে দলের মধ্যে ভাঙন দেখা দেয়। চিরাগের কাকা পশুপতি পারস আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করেন। সেই সময় বিজেপিও পারসের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ফের চিরাগের সঙ্গে জোট করে। তাঁকে দেওয়া পাঁচটি আসনেই জয় পায় এলজেপি (রামবিলাস)। ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনেও এনডিএ-র শরিক হিসেবে ২৮টি আসনে লড়ে ১৯টিতে জয় পায় চিরাগের দল।এই সাফল্যের পর উত্তরপ্রদেশেও নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে চাইছেন চিরাগ। তবে বিজেপি শেষ পর্যন্ত তাঁকে কতগুলি আসন ছাড়তে রাজি হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
উত্তরপ্রদেশে আসন সমঝোতা না হলে একাই লড়বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ানের দল, ৪০৩টি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার হুঁশিয়ারি
Popular Categories


