Tuesday, July 21, 2026
27.3 C
Kolkata

আসামে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযানের ১,০৮০টি পরিবার গৃহহীন যাদের অধিকাংশই বাঙালি

গত শনিবার আসামের গোয়ালপাড়া জেলার পাইকান রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায় একটি ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। গত এক মাসের মধ্যে এটি রাজ্যের পঞ্চম বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান। এই অভিযানে ১,০৮০টি পরিবারকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম। আসামের বিজেপি সরকার দাবি করেছে, এই পরিবারগুলো বনভূমিতে অনধিকার প্রবেশ করেছিল। কিন্তু স্থানীয়রা বলছেন, তারা এই জমি কিনেছিলেন এবং বহু বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছেন। সমালোচকদের মতে, এই উচ্ছেদ অভিযানগুলো আসামের বিজেপি সরকারের বাঙালি মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা ও বৈষম্যমূলক নীতির একটি অংশ।

এই অভিযানে ৩৬টি বুলডোজার এবং প্রায় ১,০০০ জন নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। বাসিন্দারা তাদের বাড়ি থেকে জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে রাস্তার ধারে তাঁবু খাটিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। রোকিবুল হুসেন নামে একজন বাসিন্দা বললেন, “আমরা আমাদের জিনিসপত্র আত্মীয়ের বাড়িতে রেখেছি, কিন্তু রাতে আমাদের তাঁবুতে থাকতে হবে।” এই নির্মম দৃশ্য দেখে মনে হয়, সরকারের কাছে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই।

উচ্ছেদের সময় কেউ প্রতিরোধ করেনি, তবে এলাকায় ভয় আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। ফাউজাউল হক নামে একজন বাসিন্দা তার বাড়ি ভাঙার আগে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। শাহ জাহান আলী নামে আরেকজন বললেন, “এখানে কেউ লড়াই করতে পারবে না। সবাই ভয়ে আছে। কান্না করলেও বাড়ি বাঁচবে না।” এই অসহায়তা আর দুঃখের চিত্রই প্রমাণ করে যে, বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপ কতটা অমানবিক।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে আসামের বিজেপি সরকার এই উচ্ছেদ অভিযানগুলোকে ‘জনসংখ্যার ভারসাম্য পুনরুদ্ধার’ বলে দাবি করছে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এটা বাঙালি মুসলিমদের টার্গেট করার একটি ষড়যন্ত্র। এদিকে, কংগ্রেস নেতা রকিবুল হুসেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তারা ক্ষমতায় এলে বিজেপি সরকারের অধীনে উচ্ছেদ হওয়া সব ভারতীয় নাগরিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই।

এই অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও হয়েছে। AIUDF-এর বিধায়করা উচ্ছেদ স্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের আটকে দেয়। এটা স্পষ্ট যে, সরকার বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে রাখতে চায়।

উচ্ছেদের পরেও অনেক পরিবার ধ্বংসস্তূপের পাশে বসে আছে। তাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। মফিদুল ইসলাম (৩১) বললেন, “আমাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তাঁবু খাটাব, কিন্তু বিদ্যুৎ, পানি সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাচ্চাদের নিয়ে কী করব, বুঝতে পারছি না।” এই উচ্ছেদ অভিযানগুলো আসামের বিজেপি সরকারের বাঙালি মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের আরেকটি প্রমাণ। হাজার হাজার পরিবারকে ঘরবাড়ি থেকে উৎখাত করা হচ্ছে, অথচ তাদের পুনর্বাসনের জন্য কিছুই করা হচ্ছে না। এই নির্মমতা সত্যিই নিন্দার যোগ্য।

এই ঘটনা দেখে মনে হয়, আসামের বিজেপি সরকার শুধু জমি ফাঁকা করতে চায় না, বাঙালি মুসলিমদের জীবন থেকে মুছে দিতে চায়। এটা কি মানবিক? সরকারের এই অত্যাচার কতদিন চলবে, তা এখনো অজানা।

Hot this week

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

Topics

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

‘ঘোর পাপ হয়েছে’—দু’মাস পর নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেক...

দশ বছরে সংঘ-ঘনিষ্ঠ ২০ সংস্থাকে ৬৬৮ কোটির বেশি অনুদান! ওএনজিসির সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি...

Related Articles

Popular Categories