২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এত বছর পরেও সেই হামলার নেপথ্যে কারা ছিল, তাদের কীভাবে সাহায্য করা হয়েছিল এবং কোনও সরকারি যোগ ছিল কি না—এসব প্রশ্ন পুরোপুরি থামেনি। এবার বিবিসির একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে সামনে এসেছে এমন কিছু তথ্য, যা ৯/১১ হামলার সঙ্গে সৌদি আরবের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
বিবিসির দাবি, সৌদি নাগরিক ওমর আল-বায়ুমি হামলার অন্যতম অভিযুক্ত দুই ছিনতাইকারীকে সাহায্য করেছিলেন। নওয়াফ আল-হাজমি এবং খালিদ আল-মিধার নামে ওই দুই ব্যক্তি ৯/১১ হামলায় ব্যবহৃত বিমান ছিনতাইকারীদের মধ্যে ছিলেন। আমেরিকায় থাকার জন্য তাঁদের বাসা খুঁজে দিতে এবং প্রয়োজনীয় কিছু কাজে বায়ুমি সাহায্য করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
১৯৯৪ সালে সৌদি আরব থেকে আমেরিকার সান দিয়েগোতে যান বায়ুমি। তাঁর বক্তব্য ছিল, ইংরেজি শেখার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। বিবিসির প্রকাশ করা পুরনো কিছু ভিডিওতেও তাঁর সঙ্গে আল কায়দার সদস্যদের ঘনিষ্ঠতার ছবি দেখা গিয়েছে।
১৯৯৭-৯৮ সালের একটি ভিডিওতে বায়ুমিকে আল কায়দার নেতা আনোয়ার আল-আওলাকির সঙ্গে পেইন্টবল খেলার সময় দেখা যায়। তাঁদের সঙ্গে সৌদি সরকারের ইসলামিক বিষয়ক দফতরের এক কর্মকর্তাকেও দেখা যায়। আরেকটি ভিডিওতে বায়ুমি ও আওলাকিকে একে অপরকে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়। এসব ছবি ঘিরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, বায়ুমির সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের সম্পর্ক কতটা গভীর ছিল।
আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে বিবিসি। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুমির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি বিমানের নকশায় ককপিটে ঢোকার পদ্ধতি সংক্রান্ত একটি চিত্র ছিল। ৯/১১ হামলার পর এফবিআই এই তথ্য হাতে পেলেও তা দীর্ঘদিন প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ।
হামলার পর বায়ুমিকে নিয়ে পাওয়া তথ্য এফবিআইয়ের নিউ ইয়র্ক দফতরে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সান দিয়েগো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের তদন্তকারী দল বারবার চাইলেও সেই নথি তাদের দেওয়া হয়নি বলে দাবি প্রতিবেদনে। এমনকি বায়ুমির সঙ্গে যোগাযোগ থাকা কয়েকজন সৌদি সরকারি কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদেও বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০১৭ সালের একটি গোপন এফবিআই রিপোর্টেও বায়ুমি হামলার আগে কিছু জানতেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছিল বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তাঁর আগে থেকে হামলার খবর জানার সম্ভাবনাকে সমান দুই ভাগে দেখা হয়েছিল। এদিকে সৌদি আরব বরাবরই ৯/১১ হামলার সঙ্গে তাদের কোনও সরকারি যোগ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে নতুন তথ্য প্রকাশের পর হামলার তদন্ত এবং সেই সময়ের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।


