বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভকে ঘিরে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হল নদিয়ার ভাটজাংলা এলাকায়। জাতীয় সড়ক ১২-এর ধারে অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁয় শুধু হালাল মাংস বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে গত ৩১ জুলাই সেখানে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি সমর্থকরা। কিছু সময়ের জন্য রেস্তোরাঁর সামনে উত্তেজনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন কয়েকজন বিজেপি কর্মী রেস্তোরাঁয় ঢুকে কর্মীদের কাছে জানতে চান, সেখানে কী ধরনের মাংস পরিবেশন করা হয়। কর্মীরা জানান, রেস্তোরাঁয় কেবল হালাল মাংসই দেওয়া হয়। এরপর বিক্ষোভকারীরা জানতে চান, ঝটকা মাংসের কোনও ব্যবস্থা আছে কি না। উত্তরে কর্মীরা জানান, সেই ধরনের মাংস সেখানে রাখা হয় না।
এই জবাবের পরই দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যবসায়িক নীতির কথা তুলে ধরে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করলেও বিক্ষোভকারীরা সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি। পরে তাঁরা রেস্তোরাঁর বাইরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রেস্তোরাঁয় শুধুমাত্র হালাল মাংস পরিবেশন করা হলেও সেই তথ্য স্পষ্টভাবে গ্রাহকদের জানানো হয় না। তাঁদের দাবি, মেনুকার্ড কিংবা দোকানের বাইরে কোথাও এই বিষয়ে কোনও উল্লেখ নেই। ফলে অনেক হিন্দু ক্রেতা না জেনেই সেই খাবার খেয়ে ফেলতে পারেন।
বিজেপি কর্মী উদয় রাজনাথ বলেন, যেসব রেস্তোরাঁয় শুধুমাত্র হালাল মাংস পরিবেশন করা হয়, সেখানে তা স্পষ্টভাবে লিখে রাখা উচিত। পাশাপাশি, যাঁরা ঝটকা মাংস খেতে চান, তাঁদের জন্য সেই ব্যবস্থাও রাখা হলে গ্রাহকদের পছন্দের স্বাধীনতা বজায় থাকবে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রেস্তোরাঁর সামনে বিক্ষোভ চলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন। পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, সেদিকে নজর রেখে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আবেদন জানান তাঁরা।
পুলিশের হস্তক্ষেপের পর ধীরে ধীরে উত্তেজনা কমে আসে এবং বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি তুলে নেন। ঘটনায় কোনও রকম ভাঙচুর, সংঘর্ষ বা আহত হওয়ার খবর মেলেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়।


