রাজধানী দিল্লিতে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। যন্তরমন্তরে প্রস্তাবিত জমায়েত ও অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে সতর্ক প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের ভিড় সামলানো এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ যন্তরমন্তরে নতুন করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। সংগঠনটির এবারের কর্মসূচিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কর্মসূচিকে ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে প্রায় ২৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, প্রায় ২৫ হাজার দিল্লি পুলিশকর্মীও দায়িত্বে থাকতে পারেন। জম্মু ও কাশ্মীর, ছত্তিশগড় এবং পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আধাসামরিক বাহিনী আনার কথাও জানা গিয়েছে।
বিএসএফ, সিআরপিএফ, আইটিবিপি, এসএসবি এবং সিআইএসএফের মতো বাহিনীকে নিরাপত্তার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। এর আগে বিভিন্ন কর্মসূচি ও সম্মেলনের জন্য দিল্লিতে আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন ছিল। নতুন করে আরও বাহিনী আনার সিদ্ধান্তে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যন্তরমন্তরে যাতে বড় জমায়েত না হয়, সে জন্য দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলিতে নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাস টার্মিনাস, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর এবং জাতীয় সড়কে বিশেষ তল্লাশি চালানো হতে পারে। দিল্লিতে আসা সাধারণ যাত্রীদের পরিচয়পত্র দেখাতে হতে পারে। নিরাপত্তারক্ষীদের সন্দেহ হলে তাঁদের যাতায়াতের কারণ জানতে চাওয়া এবং ছবি তুলে রাখার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই ব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কতটা প্রভাব পড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
যন্তরমন্তরে অবস্থান কর্মসূচির অনুমতি না থাকায় আন্দোলনকারীরা সেখানে পৌঁছতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অন্যদিকে, সংগঠনটির বক্তব্য, নির্দিষ্ট জায়গায় বাধা দেওয়া হলে সেখানেই প্রতিবাদ জানানো হবে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন কীভাবে জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস বা অন্য কোনও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। ফলে নির্ধারিত কর্মসূচির আগে দিল্লির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে সকলের।


