মাসের শুরুতেই বাড়ল বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম। উৎসবের মরসুম শুরুর আগে এই মূল্যবৃদ্ধিতে নতুন করে চিন্তা বেড়েছে হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর। একই সঙ্গে এর প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের উপরও। কারণ, গ্যাসের খরচ বাড়লে খাবার তৈরি ও বিক্রির খরচও বাড়তে পারে।
নতুন দামে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য আগের তুলনায় ৬২ টাকা ৫০ পয়সা বেশি দিতে হবে। কলকাতায় এখন এই সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ২,৯৫৪ টাকা। উৎসবের সময়ে যখন বাজারে কেনাকাটা এবং ব্যবসার চাপ বাড়ে, ঠিক সেই সময় গ্যাসের দাম বৃদ্ধি অনেক ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ তৈরি করতে পারে।
চলতি বছর এপ্রিল মাসের পর থেকে বাণিজ্যিক এলপিজির দামে একাধিকবার পরিবর্তন হয়েছে। এবার ফের দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীদের খরচের হিসাব নতুন করে করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাস্তার ধারের খাবারের দোকান, মিষ্টির দোকান, রেস্তোরাঁ এবং ক্যাটারিং পরিষেবার মতো ব্যবসাগুলিতে বাণিজ্যিক গ্যাসের ব্যবহার বেশি। ফলে সিলিন্ডারের দাম বাড়লে তাদের মোট খরচও বাড়তে পারে।
এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব বিভিন্ন জ্বালানির বাজারেও পড়তে পারে। এলপিজির ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক দামের ওঠানামা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এদিকে, ১৪.২ কেজির ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দামে আপাতত কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। অর্থাৎ বাড়িতে ব্যবহারের সিলিন্ডারের জন্য এই মুহূর্তে গ্রাহকদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে না। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যদি দীর্ঘদিন উঁচু থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে ঘরোয়া এলপিজির দামেও পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে নজর রয়েছে। পুজোর আগে বাণিজ্যিক গ্যাসের এই নতুন দাম ব্যবসার খরচ আরও বাড়ায় কি না এবং তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত খাবারের দামেও পড়ে কি না, এখন সেদিকেই নজর ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—দুই পক্ষের।


