কেরলের একটি স্কুলে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের ক্যুইজে বিনায়ক দামোদর সাভারকরকে নিয়ে করা প্রশ্ন ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ক্যুইজে সাভারকরকে স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে উল্লেখ করা এবং ব্রিটিশ সরকারের হাতে তাঁর কঠোর শাস্তি পাওয়ার কথা বলা হয়। এই প্রশ্নোত্তর প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। ঘটনার তদন্তের পর স্কুলের এক শিক্ষককে সাসপেন্ড করেছে রাজ্যের শিক্ষাদপ্তর।
ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের কাসারাগাড জেলার একটি স্কুলে। গত ৬ আগস্ট সেখানে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘ফ্রিডম ক্যুইজ’-এর আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রাখা হয়। তার মধ্যেই সাভারকরকে নিয়ে একটি প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আপত্তি ওঠে। প্রশ্নে তাঁকে স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, ইতিহাসের একটি বিতর্কিত চরিত্রকে একপাক্ষিকভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেরলের রাজনীতিতেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন কেরলের সাধারণ শিক্ষামন্ত্রী এন সামসুদ্দিন। শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তর স্পষ্ট করে জানায়, এই ক্যুইজের সঙ্গে শিক্ষা দপ্তর বা সোশ্যাল সায়েন্সেস ক্লাবের কোনও সরাসরি সম্পর্ক ছিল না। কারা অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিলেন এবং প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্বে কারা ছিলেন, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, প্রশ্নে যদি সত্যিই ঐতিহাসিক তথ্যের ভুল উপস্থাপন হয়ে থাকে, তাহলে তার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের পর গুরুপ্রসাদ নামে এক শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেরলের রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। সিপিএমের পক্ষ থেকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ সরকারের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করা হয়েছে। তাদের দাবি, বিজেপি ও সংঘ পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয় স্কুলের ক্যুইজে জায়গা পেয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার কথা বলা হয়েছে। সাভারকরকে নিয়ে প্রশ্নটি ঠিক কীভাবে তৈরি হয়েছিল, কার অনুমোদনে তা ক্যুইজে রাখা হয়েছিল এবং শিক্ষার্থীদের সামনে ইতিহাস কীভাবে তুলে ধরা হয়েছিল, এখন সেই বিষয়গুলিই তদন্তের কেন্দ্রে।


