২০১৯ সালের ১৫ আগস্ট ‘জল জীবন মিশন’ শুরু করেছিল কেন্দ্র। লক্ষ্য ছিল ২০২৪ সালের এর মধ্যে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে নলবাহিত জল পৌঁছে দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় এবার ২০২৮ সালকে নতুন সময়সীমা ধরে ‘জল জীবন মিশন-২’ চালু করা হয়েছে। ফলে একদিকে ঘরে জল পৌঁছনোর প্রতিশ্রুতি থাকলেও, অন্যদিকে সেই জল ব্যবহারের জন্য মাসিক খরচের নতুন বোঝা চাপানো হয়েছে।
গ্রামের বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে এবার যোগ হচ্ছে নতুন খরচ। কেন্দ্রের ‘জল জীবন মিশন-২’-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, নলের জল ব্যবহার করার জন্য পরিবারপিছু মাসে ৪০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত দিতে হতে পারে। সরকারি নথিতে এই খরচের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন অ্যান্ড মেন্টেন্যান্স’।
যদিও কত টাকা নেওয়া হবে তা নির্ধারন করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। পঞ্চায়েতের পাশাপাশি ‘ভিলেজ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন কমিটি’ (VWSC)-র মাধ্যমে এই ব্যবস্থা পরিচালিত হবে। সেখানে এলাকার বাসিন্দারাও যুক্ত থাকবেন। কেন্দ্রের যুক্তি, পাইপলাইন, জল সরবরাহ ব্যবস্থা ও অন্যান্য পরিকাঠামো ঠিকঠাক রাখতে এই টাকা প্রয়োজন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি মানুষ প্রতিদিন ৫৫ লিটার জল পাবেন। পশ্চিমবঙ্গের হিসাব ধরলে, এই খাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বছরে প্রায় ৪৭৮ কোটি ৯৪ লক্ষ ৭১ হাজার ২০০ টাকা সংগ্রহ হতে পারে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে এই মাসিক টাকা আরও বাড়তে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে স্থানীয় স্তরে তৈরি ওই বিশেষ কমিটি।
ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশে পরিবারপিছু ৫০ টাকা, হরিয়ানায় ৪০ টাকা এবং কর্ণাটকে ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি চলছে।
বৈঠকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের পুর এলাকার বাইরে ১ কোটি ৭৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৫৯৮টি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে ৯৯ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬৫টি বাড়িতে ইতিমধ্যেই কলের জল পৌঁছেছে। ২০১৯ সাল থেকে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই প্রকল্পে কেন্দ্র ও রাজ্য মিলিয়ে খরচ হয়েছে ২৮,৫৭৭ কোটি টাকা।
এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে তৃণমূল। গত ৫ আগস্ট কেন্দ্রীয় জলশক্তিমন্ত্রী সি আর পাতিলের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান উলুবেড়িয়ার সাংসদ সাজদা আহমেদ।
কেন্দ্রের অর্থ বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাজদা আহমেদের দাবি, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কেন্দ্রের দেওয়ার কথা ছিল ৫,০৫০ কোটি টাকা, কিন্তু দেওয়া হয়েছে মাত্র ২,৫২৫ কোটি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্য সরকার ৩৯১ কোটি টাকা দিলেও কেন্দ্র কোনও অর্থ দেয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বৈঠকে এই প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি।


