প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ডিগ্রির নথি প্রকাশের দাবি জানিয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিল গুজরাট হাইকোর্ট। আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের করা আবেদন নিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর এই রায় দেয় আদালত। একই সঙ্গে তাঁর উপর আগে চাপানো ২৫ হাজার টাকার খরচের নির্দেশও বহাল রাখা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সুনীতা আগরওয়াল এবং বিচারপতি ডি এন রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, কোনও ব্যক্তির শিক্ষাগত নথি সাধারণত ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে পড়ে। কোনও ব্যক্তি দেশের প্রধানমন্ত্রী বা অন্য কোনও সাংবিধানিক পদে রয়েছেন বলেই তাঁর শিক্ষাগত রেকর্ড প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায় না। আদালতের মতে, এই তথ্য প্রকাশের জন্য আলাদা করে জনস্বার্থের যথেষ্ট কারণ থাকা প্রয়োজন।
মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে আদালতে চলছিল। ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন বা সিআইসি মোদির ডিগ্রি সংক্রান্ত তথ্য খুঁজে দেখার এবং তা কেজরিওয়ালকে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল। পরে গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যায়। ২০২৩ সালে একক বিচারপতির বেঞ্চ সিআইসির নির্দেশ বাতিল করে এবং কেজরিওয়ালের উপর ২৫ হাজার টাকা খরচ চাপায়। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই পরবর্তী সময়ে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করা হয়।
এবার সেই আবেদনও খারিজ করল আদালত। বিচারপতিরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের প্রাক্তন পড়ুয়াদের শিক্ষাগত নথি একটি বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্কের মাধ্যমে সংরক্ষণ করে। তথ্যের অধিকার আইনের নির্দিষ্ট ধারায় এই ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। আদালতের বক্তব্য, বৃহত্তর জনস্বার্থ প্রমাণিত না হলে এই তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া যায় না।
আদালত আরও জানিয়েছে, শুধু সরকারি পদে থাকার কারণে কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের দাবি করা যায় না। তবে কোনও আইন যদি নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা তৈরি করে, সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে।
এই মামলায় আদালত আরও প্রশ্ন তুলেছে, সিআইসি কীভাবে কেজরিওয়ালের একটি চিঠিকে ভিত্তি করে নিজে থেকে বিষয়টি গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের মতে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আরটিআই আবেদন না থাকায় সিআইসির ওই পদক্ষেপ আইনসঙ্গত ছিল না।
ফলে মোদির শিক্ষাগত নথি প্রকাশের দাবি সংক্রান্ত এই আইনি লড়াইয়ে কেজরিওয়ালের আবেদন খারিজ হল। একই সঙ্গে আগের আদালতের ২৫ হাজার টাকার খরচের নির্দেশও বহাল রইল।


