গত পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্কে বিপুল অঙ্কের আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। তবে সেই ক্ষতির তুলনায় উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ অত্যন্ত কম বলে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য থেকে জানা গিয়েছে। রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ব্যাঙ্ক জালিয়াতি সংক্রান্ত তথ্য জানতে কেন্দ্রের কাছে লিখিত প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে চান, গত পাঁচ বছরে দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় কত টাকার প্রতারণা হয়েছে এবং তার মধ্যে কতটা অর্থ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এর জবাবে অর্থ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী লিখিতভাবে জানান, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী গত পাঁচ বছরে দেশের সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্ক মিলিয়ে মোট ১ লক্ষ ৪২ হাজার ১১২ কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে এর মধ্যে উদ্ধার করা গিয়েছে মাত্র ৬ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট ক্ষতির তুলনায় পুনরুদ্ধারের হার পাঁচ শতাংশেরও কম।
এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর বিরোধীরা কেন্দ্রের আর্থিক নীতি এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তাঁদের দাবি, এত বড় অঙ্কের অর্থ হাতছাড়া হওয়ার পরও অধিকাংশ টাকা ফেরত আনা সম্ভব না হওয়া উদ্বেগজনক।
এদিকে সংসদে আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ নিয়েও তথ্য সামনে এসেছে। এই প্রশ্ন করেছিলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী, যিনি দেব নামেও পরিচিত। তিনি জানতে চান, গত দু’মাসে পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে কেন্দ্রের তরফে কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে কি না।
গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী কমলেশ পাসোয়ানের জবাবে দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের আগে একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পে ৪৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। তবে মে মাসের পর পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এরপর একাধিক গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পে মোট ২ হাজার ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
এই অর্থের মধ্যে কর্মসংস্থান, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সড়ক নির্মাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য দাবি করেছে, প্রকল্পের প্রয়োজন এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের ভিত্তিতেই অর্থ বরাদ্দ করা হয়। এর সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনও সম্পর্ক নেই।
তবে বিরোধী মহলের একাংশের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের পরই কেন্দ্রীয় বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠছে। ফলে ব্যাঙ্ক জালিয়াতির পরিসংখ্যানের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দের বিষয়টিও এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।


