আগেই ভাঙচুর করা হয়েছিল লেনিনের মূর্তি। এ বার রাতারাতি বেদি থেকে উধাও হয়ে গেল সেই ভাঙা মূর্তিও! মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাতের অন্ধকারে কারা মূর্তিটি সরিয়ে দিল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। সিপিএমের অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে পদ্ম শিবির।
জিয়াগঞ্জ শ্রীপৎ সিংহ কলেজের সামনে তিন মাথার মোড়ে ফাইবারের তৈরি লেনিনের মূর্তিটি ছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ওই জায়গায় লেনিনের পরিবর্তে মরাঠা বীর ছত্রপতি শিবাজির মূর্তি বসানো হতে পারে বলে জল্পনা ছড়ায়। এর পরেই গত ৫ মে রাতে একদল দুষ্কৃতী লেনিনের মূর্তিটি ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল সিপিএম। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল বিজেপি।
ঘটনার পর থেকে ভাঙা মূর্তির অংশগুলি বেদির উপরেই রাখা ছিল। কিন্তু বুধবার রাতে আচমকাই সেগুলি সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে ঘটনার পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ভাঙা মূর্তিটিরও কোনও সন্ধান মেলেনি। এই ঘটনায় জিয়াগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে সিপিএম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালে জিয়াগঞ্জের তৎকালীন সিপিএম পরিচালিত পুরসভার উদ্যোগে মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছিল। তৎকালীন পুরপ্রধান শঙ্কর মণ্ডল কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির শিল্পীদের দিয়ে ফাইবারের এই লেনিন মূর্তি তৈরি করিয়েছিলেন। মূর্তিটির শিল্পী ছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত মৃগাঙ্ক পাল। দীর্ঘদিন ধরে ওই মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মূর্তিটি ভাঙার ঘটনায় আগেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
এ বার ভাঙা মূর্তির অবশিষ্টাংশও উধাও হয়ে যাওয়ায় নতুন করে সরব হয়েছে সিপিএম। দলের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক জামির মোল্লার অভিযোগ, ‘‘যারা আগে মূর্তিটি ভেঙেছিল, তারাই এখন প্রমাণ লোপাট করতে মূর্তিটি সরিয়ে দিয়েছে। মূর্তি ভাঙার সময়ও জিয়াগঞ্জ থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি। এখনও একই অবস্থা।’’
অন্যদিকে, সিপিএমের সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বিজেপি। স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের গ্রন্থাগারমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের বক্তব্য, বিজেপি ভাঙচুরের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বরং সৃষ্টির ও গঠনমূলক রাজনীতিতেই বিশ্বাসী দল। তাঁর কথায়, ‘‘কোনও মনীষীর মূর্তি ভাঙা বিজেপির সংস্কৃতি নয়। প্রতিটি মনীষীকে সম্মান জানানোই আমাদের দলের মূল আদর্শ।’’
সব মিলিয়ে, প্রথমে লেনিনের মূর্তি ভাঙা এবং পরে সেই ভগ্নাবশেষ রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় জিয়াগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। কে বা কারা রাতের অন্ধকারে মূর্তিটি সরিয়েছে, তা জানতে তদন্তের দিকেই এখন নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের।

