মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই ফের কাছাকাছি আসার ইঙ্গিত বিরোধী দলগুলির। ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে INDIA জোটের বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক ভূমিকা, SIR এবং জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর দাবিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে বিরোধী শিবির সূত্রে খবর।
এর পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে সংসদের দুই কক্ষে নতুন করে নোটিস আনার প্রস্তুতিও চলছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, আইনি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে সেই নোটিসের খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহেই তা জমা পড়তে পারে বলে সূত্রের খবর।
দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্য নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন।
তবে নির্বাচন কমিশন সেই ব্যাখ্যার পাল্টা জানিয়েছে, কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় মতপার্থক্য বা পর্যবেক্ষণ থাকা স্বাভাবিক এবং SIR-সহ কমিশনের সিদ্ধান্তগুলি পূর্ণ কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবেই নেওয়া হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, তাদের সব নির্দেশই আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই জারি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কংগ্রেসের তরফে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের তৈরি করা নতুন নোটিসটি লোকসভা ও রাজ্যসভা—দুই কক্ষেই দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে বিরোধীদের সঙ্গে সমন্বয়ের বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়া অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া প্রয়োজন এবং এই ইস্যুতে বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াই করবে।
তৃণমূলের জাতীয় স্তরের নেতারাও INDIA-র বৈঠক ও যৌথ কর্মসূচির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। ফলে রাজ্য রাজনীতিতে পরস্পরের বিরোধী তৃণমূল, কংগ্রেস ও বাম দলগুলিকে জাতীয় স্তরে একই ইস্যুতে সমন্বয়ের পথে দেখা যেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত শুক্রবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে কংগ্রেস। দিল্লির যন্তরমন্তর, লখনউ, গুয়াহাটি, জম্মু, দেরাদুন এবং চণ্ডীগড়ে বিক্ষোভ হয়। কলকাতাতেও শনিবার পথে নামে প্রদেশ কংগ্রেস।
এদিকে শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে)-সহ অন্যান্য বিরোধী নেতারাও জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। সিপিএমের তরফেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর দাবি জানানো হয়েছে।
ফলে ৩০ সেপ্টেম্বরের INDIA জোটের বৈঠক এখন রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই বৈঠকেই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নতুন অপসারণ নোটিস, SIR নিয়ে যৌথ আন্দোলন এবং পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে বিরোধীরা কোনও অভিন্ন অবস্থান নেয় কি না, সে দিকে নজর থাকছে।


