উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক মুসলিম অটোচালকের সঙ্গে ট্র্যাফিক পুলিশের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত অটোচালক মহম্মদ দানিশ দাবি করেছেন, ট্র্যাফিক পুলিশের কয়েকজন কর্মী তাঁর সঙ্গে মারধর করেন এবং ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে অপমানজনক মন্তব্য করেন।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, দানিশ ঘটনাস্থলেই পুলিশের সঙ্গে তর্ক করছেন এবং নিজের অভিযোগ তুলে ধরছেন। তাঁর দাবি, পুলিশ তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর করে এবং আপত্তিকর ভাষায় সম্বোধন করে। দানিশের অভিযোগ, কয়েকজন পুলিশকর্মী তাঁকে মুসলিম হওয়ার কারণে আলাদা করে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁকে নিয়ে কটূক্তি করা হয় এবং তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে মন্তব্য করা হয়।দানিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি তাঁর অটো মেরামতের কাজ করছিলেন। সেই সময় ট্র্যাফিক পুলিশ সেখানে এসে তাঁর গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করে। তিনি পুলিশকে জানান যে তাঁর সমস্ত নথি বৈধ এবং প্রয়োজনে তিনি ড্রাইভিং লাইসেন্সও দেখাতে প্রস্তুত। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি বলে অভিযোগ।অটোচালকের আরও দাবি, ট্র্যাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা, যার নাম তিনি অনুপম সিং বলে উল্লেখ করেছেন, তাঁর কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। দানিশের অভিযোগ, তিনি এই দাবির প্রতিবাদ করতেই তাঁকে ভয় দেখানো হয় এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকিও দেওয়া হয়।ভিডিওতে দেখা যায়, এক পুলিশকর্মী দানিশের ভিডিও ধারণ করছেন এবং তাঁর লাইসেন্স দৃশ্যমান নয় বলে প্রশ্ন তুলছেন। অন্যদিকে দানিশ বারবার নিজের নির্দোষতার কথা তুলে ধরছেন এবং দাবি করছেন যে তাঁকে অন্যায়ভাবে হয়রানি করা হয়েছে।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন সমাজকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁদের মতে, অভিযোগগুলি অত্যন্ত গুরুতর এবং সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশে পুলিশি আচরণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
‘মুসলিম হওয়ায় অপমান করা হয়েছে’, কানপুরে ট্র্যাফিক পুলিশ অনুপম সিং-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ অটোচালক দানিশের
Popular Categories


