কয়েক মাসের ব্যবধানেই বদলে গেল রাজনৈতিক পরিচয়। তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভায় যাওয়া অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক এবার বিজেপির প্রার্থী। রবিবার রাজ্যসভা উপনির্বাচনের জন্য তাঁর নাম ঘোষণা করে বিজেপি। পরের দিনই আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন তিনি। ১৬ অক্টোবর যে আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা, সেটি কোয়েলই তৃণমূলের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে খালি করেছিলেন।
সোমবার সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে গিয়ে দলের পতাকা হাতে তুলে নেন কোয়েল। দলের নেতাদের উপস্থিতিতে বিজেপিতে তাঁর নতুন রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। যোগদানের পর কোয়েল বলেন, পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নের কাজ আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান তিনি। মানুষের জন্য কাজ করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই তাঁর লক্ষ্য বলেও জানান অভিনেত্রী।
তবে কোয়েলের এই দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, চলতি বছরের শুরুতেই তাঁকে তৃণমূল রাজ্যসভার প্রার্থী করেছিল। মার্চে নির্বাচনে জয়ের পর ৬ এপ্রিল রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নেন তিনি। কিন্তু সংসদের কোনও অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আগেই জুলাই মাসে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপর থেকেই তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছিল।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের একাংশের প্রশ্ন, বিজেপির মতো একটি বড় দলে কি এমন কোনও যোগ্য নেতা বা রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না, যাঁকে রাজ্যসভায় প্রার্থী করা যেত? কেন কয়েক মাস আগে তৃণমূলের সাংসদ হওয়া একজনকেই আবার বিজেপির প্রার্থী করতে হল—এই প্রশ্নও উঠছে। একই সঙ্গে বিজেপির অন্দরেও কি প্রার্থী বাছাই নিয়ে কোনও অসন্তোষ বা মতপার্থক্য রয়েছে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দলের ভিতরে এমন কোনও বিরোধের বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আসেনি।
আরও একটি বিষয় নিয়ে চর্চা হচ্ছে। কোয়েল যে আসন থেকে তৃণমূলের সাংসদ হয়েছিলেন এবং পরে ইস্তফা দিয়েছিলেন, সেই আসনেই এবার বিজেপির হয়ে ফের লড়ছেন তিনি। ফলে তাঁর রাজনৈতিক পথবদল শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, রাজ্যসভায় দুই দলের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনও কড়া মন্তব্য করেননি কোয়েল। বরং কোনও রাজনৈতিক দলকে আক্রমণ না করে নিজের নতুন দলের হয়ে কাজ করতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। এখন নজর ১৬ অক্টোবরের রাজ্যসভা উপনির্বাচনের দিকে। তার আগে কোয়েলের দলবদল এবং তাঁকে বিজেপির প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক কতটা বাড়ে, সেটাই দেখার। তৃণমূলের সাংসদ পদ ছাড়ার পর গত ৯ জুলাই বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন সুখেন্দু, সুস্মিতা এবং প্রকাশ। যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিন জনকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনের প্রার্থী করে বিজেপি।


