কেরলের ত্রিক্কাকারা থানায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু ঐক্য বেদির রাজ্য সভাপতি আরভি বাবুর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২ জুলাই পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিডিপি)-র নেতা আশরাফ ভাঝাক্কালার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, আরভি বাবু একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মুসলিম সম্প্রদায় সম্পর্কে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এবং একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে অপমান করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।বিতর্কিত পোস্টটি কেরল সরকারের মাদকবিরোধী অভিযান ‘অপারেশন তুফান’-কে ঘিরে করা হয়েছিল। ওই পোস্টে আরভি বাবু প্রথমে মাদকবিরোধী অভিযানে সহযোগিতার জন্য এক ধর্মীয় নেতার সঙ্গে সরকারের যোগাযোগকে স্বাগত জানান। তবে এরপরই তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে একাধিক মন্তব্য করেন।অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দাবি করেন যে কেরলে মাদক পাচার এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ মানুষ মুসলিম সম্প্রদায়ের। পাশাপাশি তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যে মাদক চোরাচালান বা সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত কার্যকলাপ মুসলিমদের জ্ঞান ছাড়া সম্ভব নয়। তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকেই ভিত্তিহীন এবং উসকানিমূলক বলে আখ্যা দিয়েছেন।সামাজিক মাধ্যমে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য একটি সম্পূর্ণ সম্প্রদায়কে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করে দেখানোর চেষ্টা করেছে এবং সমাজে বিভাজন তৈরির আশঙ্কা বাড়িয়েছে।পুলিশের দায়ের করা এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই পোস্টের মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায় ও ইসলামি ধর্মীয় নেতাদের মানহানি করা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলির মধ্যে বিদ্বেষ ও উত্তেজনা সৃষ্টি করার সম্ভাবনাও রয়েছে।এই ঘটনার জেরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা ছড়ানো, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা, মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগও রয়েছে। কেরল পুলিশ আইনের প্রাসঙ্গিক ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে খুব শীঘ্রই আরভি বাবুকে নোটিস পাঠানো হবে এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেরলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
Popular Categories


