ভারতের সবাই করোনা ভ্যাকসিন পাবে না, সাফ কথা মোদি সরকারের; বিশেষজ্ঞরা বলছেন,আবার ফিরতে পারে করোনা অতিমারি!

নিউজ ডেস্ক : বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের জন্য শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অনুকরণে অসংখ্য প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছোটানো বিজেপি এবার জানিয়ে দিল সারা দেশের সমস্ত নাগরিক করোনা ভ্যাকসিন পাবে না। বঙ্গবাসী ২০১৪ এর আগে মোদীর দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলির কথা সামনে রেখে মূল্যায়ণ করতে পারে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন জয়ের লক্ষ্যে বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বিহারে নির্বাচনের পূর্বে সবাইকে ভ্যাকসিন বিনামূল্যে দেওয়ার কথা বলেছিল বিজেপি। কিন্তু এবার কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সাফ জানাল দেশের সবাই করোনা ভ্যাকসিন পাবে না। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা হর্ষবর্ধন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবাইকে ভ্যাকসিন না দেওয়া হলে আবার ফিরতে পারে করোনা অতিমারী, যার ফলে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারতের অর্থ ব্যবস্থা।

 

এনসিপি এর সাংসদ সুপ্রিয় শুলের করা প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রী গত শুক্রবার লোকসভায় জানান, কেন্দ্র সরকার দেশের সবাইকে ভ্যাকসিন দেবে না। তার মতে, দেশের সবাইকে ভ্যাকসিন দেওয়ার বৈজ্ঞানিক কোনো যুক্তি বা ভিত্তি নেই। কিন্তু তার যুক্তির বিরুদ্ধে বহু বিশেষজ্ঞ বলেছেন, দেশের সবাইকে এই ভ্যাকসিন দিয়ে করোনার বিরুদ্ধে সার্বিক অনাক্রম্যতা অর্জন করা না হলে আবার দেশে করোনা অতিমারীর আবির্ভাব হতে পারে। আর এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, জাপান, যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ সহ উন্নত বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ তাদের সমস্ত নাগরিককে ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এমনকি যে কোনো দেশের সমস্ত নাগরিককে এই ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু। যে সব দেশ ভ্যাকসিন উৎপাদনে অক্ষম এবং বিভিন্ন কারণে অন্য দেশ থেকে ভ্যাকসিন আমদানি করতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে তাদেরকে সাহায্য করছে হু্। নিজেদের উদ্যোগে শুধু বিশ্বের ২০ শতাংশ মানুষকে এই করোনা ভ্যাকসিন প্রদানের লক্ষ্য মাত্রা নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাটি।

এদিকে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের কথা না ভেবে মোদি সরকার বানিজ্যিক লাভের আশায় বিদেশে এখনও পর্যন্ত দেশে ব্যাবহৃত ভ্যাকসিনের তুলনায় অনেক বেশি ভ্যাকসিন রপ্তানি করেছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। উল্লেখ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রী জানান এখনও পর্যন্ত দেশের ৩.৫ থেকে ৪ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। এখন মূলত স্বাস্থ্য কর্মী, সরকারি কর্মচারী, ৬০ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিরা করোনা ভ্যাকসিন পাচ্ছেন। এরপর ৪৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী ব্যক্তিদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। কিছুদিন আগে পাওয়া এক পরিসংখ্যানে জানা গিয়েছে মোদি সরকার ভারতে এখনও পর্যন্ত ব্যাবহার করেছে প্রায় ৪ কোটি ভ্যাকসিন যেখানে বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে ৫ কোটির বেশি ভ্যাকসিন। এই বিষয়টি নিয়েও দেশবাসীর স্বাস্থ্য করোনা প্রাদুর্ভাবের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য মোদি সরকারের প্রকৃত সদিচ্ছা নিতে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *