Tuesday, July 21, 2026
27.3 C
Kolkata

বলিউড সিনেমার গেরুয়াকরণ ও কিছু কথা

হিন্দি তথা বলিউড সিনেমা হল ভারতীয় সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। শুক্রবার, অর্থাৎ ছবি মুক্তির দিনগুলোতে রূপালি পর্দায় পছন্দের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের দেখবার জন্যে লাখো মানুষের ভিড় উপচে পড়ে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোয়। বলিউড তারকারা অনুরাগীদের মধ্যে দেব-জ্ঞানে পূজিত হন, ইন্ডাস্ট্রির চাকচিক্যে আকর্ষিত হয়ে বহু মানুষ আবার মুম্বাইতে কাজ করতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। এইভাবে প্রতিদিন আরব সাগরের তীরে, মায়ানগরীর বুকে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিচিত্র, ভাষা-সংস্কৃতির মানুষের মেলবন্ধনে সেই ইন্ডাস্ট্রি পরিপূর্ণতা পায়।

স্বাধীনতা-উত্তর ভারতবর্ষে, বোম্বাইয়ের (বর্তমান মুম্বাই) চলচ্চিত্র দেশগঠনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছিল। তখনো এর নামকরণ ‘বলিউড’ হয়নি। চিত্রনাট্য কিংবা গান লেখা হত মূলত হিন্দুস্তানি ভাষায় ও উর্দু হরফে। প্রত্যেক ছবিতে থাকত দর্শকদের উদ্দেশ্যে কিছু ইতিবাচক বার্তা। সদ্য স্বাধীনতা লাভ করা দেশটি যখন সবে গুটি-গুটি পায়ে সার্বিক উন্নয়নের দিকে হাঁটতে শুরু করেছে, তখন বিমল মিত্র, রাজ কাপুর, শান্তারাম, খাজা আহমেদ আব্বাস, চেতন আনন্দ, গুরু দত্তদের মতো চিত্র-পরিচালকদের সিনেমা দর্শকদের মনে এনে দিয়েছিল প্রগতিশীলতা, সামাজিক সংহতি ও সহাবস্থানের ভাবনা, যা দেশগঠনের ক্ষেত্রে তৎকালীন রাষ্ট্রনায়কদের উন্নয়নশীল চিন্তারই প্রতিফলন ছিল। এইভাবে, কালক্রমে জাতিগত ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতির আরেক নাম হয়ে উঠেছিল ‘বলিউড’।

কিন্তু সাম্প্রতিককালে, বিজেপি শাসনের আমলে দেখা যাচ্ছে, বলিউড সিনেমাকে ব্যবহার করা হচ্ছে রাজনৈতিক পেশীশক্তির আস্ফালনের একটি অস্ত্র হিসাবে। খুব সুচতুরভাবে প্রযোজক ও চিত্র-পরিচালকেরা বেছে নিচ্ছেন কিছু বিতর্কিত ঐতিহাসিক চরিত্রদেরকে, যাদের মাধ্যমে চরিতার্থ করা হচ্ছে হিন্দুত্ববাদী-ফ্যাসিবাদী ভাবনাকে। এতে, বলিউড ইন্ডাস্ট্রির রাজনীতিকরণ ও গেরুয়া-শিবিরের প্রতি তোষামোদের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে। মিলিটারি ও যুদ্ধ-বিষয়ক ছবি, কিংবা সন্ত্রাসবাদ-দমন বিষয়ক ছবি এমনভাবে বানানো হচ্ছে, যেখানে বেছে বেছে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা দেশকেই দায়ী করে দেখানো হচ্ছে। ইতিহাস আর তথ্যকে সুকৌশলে ও ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা হচ্ছে, দেখানো হচ্ছে একতরফা আখ্যান, ছড়ানো হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার বিষ, জাগিয়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে সংখ্যালঘু-বিদ্বেষের ভাবনাকে। দেশপ্রেমের নামে বক্সঅফিসে বিক্রি হচ্ছে উগ্র-জাতীয়তাবাদের টিকিট, বিঘ্নিত হচ্ছে বহু শতক ধরে গড়ে তোলা মানুষ-মানুষের সম্প্রীতি। 

এইভাবে, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গেরুয়া-শিবির, দেশের শিক্ষাক্ষেত্র থেকে শুরু করে মিডিয়া পর্যন্ত সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে কব্জা করে মানুষের ভাবনাচিন্তা ও জনজীবনকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। বলিউডের গেরুয়াকরণও সেই কর্মকাণ্ডেরই অংশ বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

Hot this week

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

Topics

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

‘ঘোর পাপ হয়েছে’—দু’মাস পর নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেক...

দশ বছরে সংঘ-ঘনিষ্ঠ ২০ সংস্থাকে ৬৬৮ কোটির বেশি অনুদান! ওএনজিসির সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি...

Related Articles

Popular Categories