সত্যি সত্যি ভোটে দাঁড়াচ্ছেন ‘বিজেমুল’ প্রার্থী, তৃণমূল এবং বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই তাদের

নির্বাচনী ময়দানে এবার ‘‌বিজেমূল’‌ প্রার্থী!‌ বাম দলগুলো কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়ান সেকুলার ফন্টেনে তারা বরাবরই বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে গোপন আঁতাতের অভিযোগ করেছেন এসেছেন। তাদের মতে যা বিজেপি তৃণমূল আর যারা তৃণমূল করে তারাই বিজেপির শক্তি। আর বিজেপি তৃণমূলের সমন্বিত শক্তিকে তারা বিজেমুল বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। তবে এবার উত্তর বঙ্গের ধূপগুড়িতে আক্ষরিক অর্থে ‘‌বিজেমূল’‌ প্রার্থীকে দেখা গেল।

প্রার্থী পছন্দ হয়নি স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী সমর্থকদের। তাই বিজেপি ও তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা একজোট হয়ে ধূপগুড়িতে প্রার্থী  ঘোষণা করলেন। তাতে জোর হইচই রাজনৈতিক মহলে। ধূপগুড়ি বিধানসভায় প্রার্থী করা হল ধূপগুড়ি গার্লস কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক ড.‌ নির্মল চন্দ্র রায়কে।

উল্লেখ্য ধূপগুড়িতে আদি তৃণমূলী হিসেবে পরিচিত নির্মল বাবু। এবারে তিনিই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি–র হয়ে প্রার্থী হচ্ছেন বলে ধূপগুড়িতে গুঞ্জন উঠেছিল। তাঁর বদলে মিতালি রায়কে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তাতে কর্মীদের একাংশ হতাশ।

অপরদিকে ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে এবারের বিজেপি প্রার্থী বিষ্ণুপদ রায়। তাকে ঘিড়েও বিক্ষোভ রয়েছে বিজেপির অন্দরে। বাকি জেলার মতো বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা–কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে এসে বিক্ষোভ দেখাননি। কিন্তু তলায় তলায় একজোট হয়েছেন। এর পর ড.‌ নির্মল চন্দ্র রায়ের অনুগামী তৃমমূল কর্মী এবং বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা তাঁকে প্রার্থী করার দাবি তুললেন। সঙ্গে ছিলেন ধূপগুড়ির কিছু অরাজনৈতিক ব্যক্তিরা। শনিবার রাতে তাঁরা ধূপগুড়িতে তড়িঘড়ি সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে নির্মল বাবু নির্দল প্রার্থী হচ্ছেন বলে ঘোষণা করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে ড.‌ নির্মল চন্দ্র রায় বলেন, ‘‌যুব সমাজ দিশাহীন। তাদের চাকরি নেই। কাজ নেই। আর একদিকে একটি দল বলছে বাংলা তার নিজের মেয়েকে চায়। আবার সেই দল চরম দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। অপরদিকে একদল ধর্মের জিগির তুলে ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছে। এই দুইয়ের হাত থেকে রেহাই পেতে আমাদের লড়াই।’‌ তিনি আরও বললেন, ‘‌আশা করি প্রচুর যুব ও সাধারণ মানুষ আমাদের সমর্থন করবে। আমাদের হাতে টাকা নেই। তাই আমরা সোশাল মিডিয়াকে বেশি করে হাতিয়ার করব। আশাকরি ধূপগুড়ির শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ আমাদের ব্যাপক ভাবে সমর্থন করবে।’‌

ঘটনায় তৃনমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি কৃষ্ণ কুমার কল্যানী বলেন, উন্নয়নকে সামনে রেখে বাংলার ২৯৪ টি আসনে লড়ছে তৃনমূল কংগ্রেস। আর এই ২৯৪ আসনেই তৃনমূলের আসল প্রার্থী মমতা ব্যানার্জি। ধূপগুড়িতে আমরা ব্যাপক ভোটে জিতবেন, বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ডা.‌ নির্মল চন্দ্র রায়ের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে। ধূপগুড়িতে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করার সুবাদে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে তাঁর। এর ফলে তৃণমূল এবং বিজেপি–র ভোট কাটতে সক্ষম হতে পারেন তিনি। তাই ড.‌ নির্মল চন্দ্র রায় ধূপগুড়ির রাজনীতিতে একটা গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বিজয়ী নির্ধারণে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *