তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ফের উত্তাপ ছড়ালেন ডিএমকে (DMK) নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন। সম্প্রতি বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ‘সনাতন ধর্ম’ নিয়ে তাঁর করা এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। তিনি দাবি করেন, সনাতন ধর্ম সমাজকে টুকরো করে দেয়, তাই একে পুরোপুরি মুছে ফেলা দরকার।
উদয়নিধির এই বক্তব্যের পর দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। বিজেপি-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং হিন্দু সংগঠনগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের অভিযোগ, ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই উদয়নিধি বারবার এমন মন্তব্য করছেন। একে হিন্দুদের অবমাননা হিসেবেই দেখছে বিরোধী শিবির।
বিতর্ক শুরু হলেও নিজের অবস্থানে অনড় তামিলনাড়ুর এই মন্ত্রী। তিনি বলেন, তিনি কোনো ধর্মের বিরোধী নন, বরং সামাজিক বৈষম্য ও জাতপাতের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। দ্রাবিড় ভাবাদর্শের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তিনি এমন এক সমাজের স্বপ্ন দেখেন যেখানে সবাই সমান। তামিল সংস্কৃতিকে রক্ষা করতেই তিনি এই কথা বলেছেন বলে দাবি করেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও একই ধরনের মন্তব্যের কারণে আইনি জটিলতায় জড়িয়েছিলেন উদয়নিধি। মাদ্রাজ হাইকোর্ট এর আগে জানিয়েছিল যে, কোনো আদর্শ বা বিশ্বাসকে ‘নির্মূল’ করার কথা বলা আদতে বিদ্বেষমূলক প্রচার বা ‘হেট স্পিচ’।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নিয়ে দুধরণের কথা বলছেন সাধারণ মানুষ। নেটিজেনদের একাংশ একে সামাজিক সংস্কারের পদক্ষেপ বললেও, অন্য অংশ মনে করছে এটি সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তামিলনাড়ুর আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ইস্যুটিকে বড় হাতিয়ার করতে চলেছে রাজনৈতিক দলগুলো। একদিকে ডিএমকে যেমন নিজেদের প্রগতিশীল ভাবমূর্তি তুলে ধরছে, অন্যদিকে বিজেপিও একে হিন্দু ভোটব্যাংকের কাজে ব্যবহার করতে পারে। সব মিলিয়ে এই মন্তব্য ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।


